ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সুন্দরবনে ৪ জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনে ৪ জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে চারটি সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনে সক্রিয় এসব বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-৬ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-৬ জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা চারটি জলদস্যু বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন।

Advertisement

র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধের শিকার হয়ে আসছিলেন। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তবে সম্প্রতি নতুন কয়েকটি দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারীদের কয়েকজনের ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়ায় সুন্দরবনে নজরদারি বাড়ানো হয়।

র‌্যাব-৬ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য একযোগে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার আগের দিন চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণকে বনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র‌্যাব। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অবৈধভাবে কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও তা সহায়ক হবে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র‌্যাব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বাগেরহাট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!