গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনের সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
.png)
এ ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ৫ সেপ্টেম্বর করা মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে জানা গেছে, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, পরে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভর ওপর হামলা চালায়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করেন এবং দলের অন্য সদস্যরা চাকু দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন ও সিয়ামকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে বন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।
তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিরা এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।