সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখন সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের কোনো কাজেই আসছে না। এতে দুই পাড়ের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, চরকুরুলিয়া এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর ২০২১ সালের শুরুতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজটি পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’।
.png)
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। সময় বাড়ার সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত সেতুটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি সেতুটির মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুরু থেকেই ধীরগতি ছিল। পাশাপাশি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুটির বর্তমান অবস্থা দেখে এটিকে বহু বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্থাপনা বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই পাশে এখনো কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি পারাপারের উপযোগী হয়ে উঠেনি। যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষও সেতুটির ওপর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না।
সেতুটি চালু না হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে প্রতিনিয়ত অন্তত পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সেতু নির্মাণে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।