এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মারজাহান বেগম রোববার সন্ধ্যায় কবিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে মারজাহান বেগম বলেন, কবিরহাটের ভূঁইয়ারহাট বাজারের স্কুল রোডে তাঁর একটি ভবন নিয়ে আইনি ও স্থানীয়ভাবে জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর সহপাঠী আবদুল কাদের জসিম নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সমস্যাটি সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা নেন জসিম।
.png)
মারজাহানের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর থেকেই জসিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমনকি তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সমস্যার সমাধানের আশায় একাধিকবার ভূঁইয়ারহাট বাজারে গিয়ে জসিমের খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে নিজের ভবনের আইনি জটিলতার সমাধান করেন মারজাহান। এরপর পাওনা এক লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য জসিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর জসিমের সন্ধান পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
মারজাহান বেগম আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল কাদের জসিম অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেছেন কি না, তা অভিযোগে উল্লেখ নেই।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে মারজাহান বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া এক লাখ টাকা উদ্ধার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল কাদের জসিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’