ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তান

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫২, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তান
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। ছবি: সংগৃহীত

বাবা হওয়ার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে পৃথিবীর আলো দেখা তাঁর সন্তান এখনো বাবার মুখও চিনে ওঠেনি। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই সদ্যভূমিষ্ঠ সেই সন্তানকে বাবাহারা করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পিয়াস।

নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর সুনাম ছিল। হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলা এবং সহজ-সরল আচরণের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবনে কয়েক দিন আগেই এসেছিল নতুন আনন্দ। তাঁর ঘর আলো করে জন্ম নেয় সন্তান। সন্তান জন্মের আনন্দে যখন পরিবারে বইছিল উৎসবের আমেজ, তখনই হঠাৎ নেমে আসে শোকের ছায়া।

যে সন্তানকে কোলে তুলে আদর করার কথা ছিল, যার ছোট্ট হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, সেই সন্তানকেই বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করে চলে গেলেন পিয়াস। বাবার মুখ চিনে ওঠার আগেই নবজাতকটি হারাল তার সবচেয়ে আপন মানুষটিকে।

পিয়াসের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সুন্দলপুর ইউনিয়নসহ পুরো কবিরহাট উপজেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা বলেন, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। দেশের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় তাঁর এমন অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তাঁর চলে যাওয়ার বিষয়টি পুরো ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদম পুষ্প চাকমা বলেন, ‘সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তাঁর চলে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-02
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!