ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:০০, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের
খুলনায় বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) স্থাপিত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট উদ্বোধন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েলের সংকটের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনায় বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) স্থাপিত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা যেখানেই সুযোগ রয়েছে, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।’ 

Advertisement

জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা সরকার দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বাকেশির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গেছে। কারখানার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পটির বিনিয়োগ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রাকৃতিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বর্তমান জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসিক কিস্তিতে ওই ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে কর ও শুল্ক সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

বাকেশিতে স্থাপিত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি কারখানার প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছে। এরই মধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্ল্যান্টটির সক্ষমতা ২ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), টেলিটক, সাবমেরিন কেবল, হাইটেক পার্কসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গার সুযোগ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিতান কুমার মণ্ডল।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাকেশির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-02
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!