খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে ‘বি কোম্পানি’ নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদা দাবির অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী হাসিব খান (২৩) নামে এক যুবককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহর থানাধীন নীলাচল আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা গোয়ান্দা বিভাগের কার্যালয়ে সকাল ১১ টায় প্রেসবিফ্রিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরে কেএমপি ডিবি ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া৷
.png)
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হাসিবুর রহমান ফরাজী হাসিব খান খুলনার লবণচরা থানাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুইচগেট ৮ম গলির ইয়াছিন ফরাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর থানাধীন নীলাচল আবাসিক এলাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।
কেএমপি জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে খুলনা মহানগরীর চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে ‘বি কোম্পানি’ নাম ও ব্যানারে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ঘটনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে হাসিবকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড ব্যবহার করে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো এবং ‘বি কোম্পানি’ নাম ও ব্যানারে চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কেএমপি বলছে, চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে তদন্তে যে মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডের তথ্য পাওয়া গেছে, অভিযানকালে সেগুলোই উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিভাইস ও সিম কার্ডের কললিস্ট, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাঁদাবাজির সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
কেএমপি আরও জানিয়েছে, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য নয়। ‘বি কোম্পানি’ নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মহানগরবাসীকে আশ্বস্ত করে কেএমপি জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, হুমকি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চাঁদাবাজি বা হুমকির শিকার ব্যক্তিদের বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কেএমপি।