ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় ঢোকার রাস্তা বন্ধ, বাঁশ-টিনের বেড়ায় ৩ পরিবার ‘অবরুদ্ধ’

ভৈরব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় ঢোকার রাস্তা বন্ধ, বাঁশ-টিনের বেড়ায় ৩ পরিবার ‘অবরুদ্ধ’
বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ। ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

পৈত্রিক ভিটায় বসবাস, অথচ নিজেদের বাড়ির সামনে দিয়ে চলাচলের পথই নেই। বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় পাঁচ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকার তিনটি পরিবার। বাড়ি থেকে বের হতে ও ঢুকতে তাদের এখন অন্যের বাড়ির পাশ দিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।

Advertisement

অভিযুক্তরা হলেন মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন পরিবারের বসতঘরের সামনে থাকা চলাচলের উঠান ও রাস্তার অংশ বাঁশ ও টিন দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক চলাচলের পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বংশপরম্পরায় ওই পথ ব্যবহার করে আসছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ছয় ভাই ও তাদের সন্তানরা বসবাস করছেন। এখনো ভাইদের মধ্যে কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি।

তার অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান রনিসহ কয়েকজন তার দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নেওয়ার পর বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ির অংশ দখলের চেষ্টা করেন। পরে তার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মিন্নাত আলী বলেন, আমাদের অন্য ভাইয়েরা বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আমরা নিজেদের পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের কিছু বলতে গেলে ক্ষমতা দেখানো হয়। এমনকি বলা হয়, তাদের বিচার করার কেউ নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলে তাদের নামও নেই। মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করেছেন।

লুৎফর রহমান বলেন, আমরা দ্রুত এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি। ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গাও করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা হোক। তবে সেই বিরোধের কারণে পৈত্রিক ভিটায় যাতায়াতের পথ বন্ধ করে তাদের পাঁচ দিন ধরে দুর্ভোগের মধ্যে রাখা বন্ধ করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ//একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!