কয়রায় নাশকতার মামলায় ইউপি সদস্যসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
খুলনার কয়রা উপজেলায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ইউপি সদস্যসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাঁদআলী ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান কহিনুর (৪৫), মো. আজহারুল ইসলাম (৪০) ও জহির উদ্দীন সরদার (৫৩)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া মো. সহিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৩৬ নেতার নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
.png)
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঙ্গলবার রাতে কয়রা উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন দখল করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁদআলী ব্রিজ এলাকায় জড়ো হন। এ সময় বাদীসহ কয়েকজন তাদের সেখানে জড়ো হতে দেখেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের সেখানে জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার কথা জানান। এছাড়া শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, কয়রায় নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, কয়রা উপজেলার কোনো ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি নেই। কেউ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ে মামলা করে থাকলে দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।