ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেড় কোটি টাকার সেতু, ওঠানামায় ভরসা মই

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৯:১৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেড় কোটি টাকার সেতু, ওঠানামায় ভরসা মই
ঝালকাঠির শতদশকাঠিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের শতদশকাঠিতে খালের ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গার্ডার ব্রিজটি এক বছর ধরে পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক ও ঢাল নির্মাণ না করায় মই বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে দুর্ভোগ কমানোর বদলে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালের ওপর আগে একটি আয়রন ব্রিজ ছিল। ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও ওই সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে পারাপার করতে পারতেন। পরে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার কথা বলে সেখানে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ প্রায় এক বছর আগে শেষ হয়েছে। তবে নির্মাণের পরও দুই পাশে এপ্রোচ সড়ক বা সংযোগের ঢাল তৈরি করা হয়নি। ফলে সেতুটি এখনো পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উত্তর পাশে সড়ক থেকে মই দিয়ে উঠে সেতুতে যেতে হচ্ছে। সেতুর সম্মুখেই রয়েছে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশে সেতুর সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার মতো কোনো সড়কই নেই। ফলে স্থানীয়দের জন্য সেতুটি কার্যত যোগাযোগের মাধ্যম হওয়ার পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম হালদার বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় এক বছর পার হলেও মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। সংযোগ সড়ক ছাড়া সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ধরনের কাজে অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সংযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এখনো মানুষের কাজে আসছে না।

স্থানীয়রা দ্রুত সেতুর দুই পাশে প্রয়োজনীয় এপ্রোচ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটিকে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সেতু নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/এমকে
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!