ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

অবকাঠামো সংকটে মনপুরার হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসা

আব্দুর রহমান সোয়েব, মনপুরা (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৮:২৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬
অবকাঠামো সংকটে মনপুরার হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসা
মনপুরার হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসার জরাজীর্ণ ভবন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার অন্যতম পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসা। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে পাঁচশতাধিক।তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি। বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখন এতটাই জরাজীর্ণ যে- বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদানে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় টিনশেড ঘরেই কার্যক্রম চলেছে। পরে ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০২০ সালে আরও একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি পাকা ভবনের অবস্থাও বর্তমানে অনেকটা জরাজীর্ণ। ভবনটি কয়েক দফা মেরামত করা হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

মাদরাসাটিতে বর্তমানে মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ডিজিটাল আইসিটি ল্যাবসহ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যায়ের পাঠদানের জন্য কক্ষ রয়েছে। পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই সংখ্যক কক্ষ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাঠদান নিয়ে ভোগান্তি বেশি। শ্রেণিকক্ষগুলোর অনেকগুলোতে জানালা নেই। বৃষ্টির সময় টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

মাদরাসাটি মনপুরায় এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন অতিরিক্ত কক্ষের প্রয়োজন হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান কক্ষ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শিক্ষার্থী মো. ইমরান বলেন, আমাদের মাদরাসার টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোতে বর্ষার সময় ক্লাস করা খুব কষ্টকর। ওপর থেকে পানি পড়ে। আবার অনেক কক্ষে জানালা না থাকায় বাইরে থেকেও পানি আসে। এতে ক্লাস করতে সমস্যা হয়।

আরেক শিক্ষার্থী মাহবুবা আক্তার বলেন, মাদরাসায় কক্ষ সংকট থাকায় মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো কমন রুমের ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় একই কক্ষে দুই শ্রেণির ক্লাসও নিতে হয়। তাই আমরা একটি নতুন ভবন চাই।

অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোসলেউদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি এটি একটি পরীক্ষা কেন্দ্র। সবকিছু বিবেচনায় আমাদের কক্ষের সংকট রয়েছে। পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মাদরাসাটিতে একটি নতুন ভবন দেওয়া হোক।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি মনপুরা উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন পায়নি। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও এই পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ এখনো টিনশেড শ্রেণি কক্ষনির্ভর।

স্বাধীনতার আগেই প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা/এমকে
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!