বজ্রপাতের বিকট শব্দে ১৮ ছাত্রী অসুস্থ, গাছ চৌচির
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে একটি বিদ্যালয়ের অন্তত ১৮ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সাতজন বাড়ি ফিরেছে। বাকি পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তারা সবাই শঙ্কামুক্ত।
একই দিনে জেলার শ্রীপুরে বজ্রপাতে একটি আকাশি গাছ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলার সিংগুয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধনুয়া বড়চালা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
সিংগুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুপুর ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বজ্রপাতের বিকট শব্দ শোনা যায়। ওই সময় বিদ্যালয়ের নিচতলায় ক্লাস চলছিল। শব্দে ভয় পেয়ে সেখানে থাকা অন্তত ১৮ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অটোরিকশায় করে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, দুপুরে ১২ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা সবাই শঙ্কামুক্ত। মূলত বজ্রপাতের বিকট শব্দে ভয় পেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া বড়চালা এলাকায় মতিন নামে এক ব্যক্তির আকাশি বাগানের একটি গাছে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে গাছটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
বাগান মালিক মতিন জানান, দুপুরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এ সময় তাঁর আকাশি বাগানের একটি গাছে বজ্রপাত হলে গাছটি চৌচির হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি কমলে ঘটনাটি দেখতে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বজ্রপাতের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে এ ঘটনায় ওই এলাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।