৪ মাসের শিশুকে বিক্রির অভিযোগ, দাদির আহাজারি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে চার মাসের শিশু সন্তানকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে বাবা-মা চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটিকে ফিরে পেতে আহাজারি করছেন তার দাদি সালেহা বেগম।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খড়মা তেলিপাড়া গ্রামে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই গ্রামের সালমান ও তার স্ত্রী লাইলা দম্পতির দুই সন্তান। তাদের বড় সন্তান মেয়ে এবং ছোট ছেলে সোলায়মানের বয়স চার মাস। দাদি সালেহা বেগমের অভিযোগ, শিশুটিকে একই ইউনিয়নের রুনা নামে এক নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির দাদি সালেহা বেগম বলেন, তার ছেলে ও ছেলের বউ ঋণগ্রস্ত। তারা নেশায়ও আসক্ত বলে দাবি করেন তিনি। টাকার জন্যই চার মাসের শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
আহাজারি করতে করতে সালেহা বেগম আরও বলেন, “গর্ভে থাকাবস্থায় তারা শিশুটিকে বিক্রি করে। জন্মের চার মাস পর শিশুটিকে ক্রেতা নারীর কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, নাতিকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন তিনি। হঠাৎ নাতিকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
শিশুটির মামি রেনু বেগম বলেন, “আমাদের সামনে চার মাসের শিশু সোলায়মানকে রুনার কাছে তুলে দেওয়া হয়। আমরা কান্নাকাটি করে প্রতিবাদ করেছি, হাত-পা ধরেছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি।”
স্থানীয় কয়েকজন নারীও একই অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, শিশুটিকে টাকা নিয়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সালমান ও তার স্ত্রী যে ঘরে থাকতেন সেটি তালাবদ্ধ। তারা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা জানাতে পারেননি স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেট অঞ্চলে। তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।