পর্যটকশূন্য সাজেক, পূজার ছুটিতে বড় অঙ্কের লোকসানের শঙ্কা
সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই, সোমবার (১২ অক্টোবর), সেখানে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করেছেন। ফলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় প্রথম দফায় ৮৫৮ জন এবং দুপুর আড়াইটায় দ্বিতীয় দফায় ২৮৩ জন—মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক সাজেক ছাড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তাঁদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। বর্তমানে সাজেকে নতুন কোনো পর্যটককে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সংগঠনটির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, "প্রশাসনের নির্দেশনার একদিন আগেই সাজেক সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য করা হয়েছে। সামনে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে আমাদের সাজেকের কটেজ ও রিসোর্টগুলোর শতভাগ রুম অগ্রিম বুকিং করা ছিল। হঠাৎ পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সাজেক উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।"
এর আগে, সাজেক সড়কে 'সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন'-এর ডাকে অনাকাঙ্ক্ষিত অবরোধ কর্মসূচির কারণে পর্যটকরা আটকে পড়েন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় অবরোধকারীরা কর্মসূচি দুই দিনের জন্য স্থগিত করলে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন এবং ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে সব পর্যটককে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।