ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভৈরবে ওসির বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা, ঘুষের অভিযোগ

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪২, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ভৈরবে ওসির বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা, ঘুষের অভিযোগ
ভৈরব থানার ওসি ও বিকাশ লেনদেন। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ অক্টোবর বিকেলে ওই অর্থ পাঠানো হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ। এ ঘটনায় এক মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ গ্রহণ না করা এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে ঘুষের অভিযোগের সম্পর্ক এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগের পক্ষে পাওয়া একটি বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত একটি নম্বর থেকে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে DJ32CPB4OQ। স্ক্রিনশটটি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়। এ সময় মুর্শেদ মিয়ার লোকজন বাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর এবং লুটপাট চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে ঘটনাটি ফোনে পুলিশকে জানানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে খবর দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ তাঁদের। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থান করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভাঙচুরের সময় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পুলিশ যাতে ঘটনাস্থলে না যায়, সে বিষয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে স্ক্রিনশটে দেখা গেছে। তবে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের দখলে থাকা বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি তা গ্রহণ করেননি। প্রায় এক সপ্তাহ তাঁর কাছে ঘোরাঘুরি করেও মামলা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।

একজন মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ গ্রহণ না করার দাবি এবং থানার ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের লোকজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং বিকাশে টাকা লেনদেনের বিষয়টিও জেনেছেন। তিনি বলেন, যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিকাশের কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে ওসির নম্বরে ঘুষের টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভৈরব/এমকে
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!