ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

লালমোহনে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে শত শত সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৩, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
লালমোহনে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে শত শত সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
লালমোহনে কেটে ফেলা সরকারি গাছ, ইনসেটে যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজকে ঘিরে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা।

দরপত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে বিক্রি করেছেন ওই যুবদল নেতা। তিনি উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি  রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা নেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়ক প্রশস্ত করতে কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেন ইউএনও। নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি গাছগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছের অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও গাছ বিক্রি করা হয়েছে। কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স্ব-মিলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গাছ কাটার চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় স্ব-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো গাছ কাটার শ্রমিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে নিজে কোনো গাছ কাটেননি বলে দাবি করেন মনির।

গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুন বলেন, আমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাছ কাটার কাজ করি। জসিম মাস্টারের নির্দেশে কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ এক লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্রের মাধ্যমে পেয়েছেন। ওই গাছগুলোই তারা কাটছেন।

সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটা হচ্ছে, বিষয়টি আমি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি গাছগুলোর টেন্ডারমূল্য নির্ধারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ওইসব গাছ বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে, গাছ কাটার অনুমোদন ও দরপত্রের বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে ১০ থেকে ১২ দিন আগে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!