ঝালকাঠিতে ৭০টি মোবাইল কোর্টে ২৭৬টি অভিযান, কোটি টাকার জাল জব্দ
৯আগস্ট থেকে ২৮আগস্ট পর্যন্ত ২২দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আওতায় ঝালকাঠি জেলায় অভিযান শেষ দিন পর্যন্ত ৭০টি মোবাইল কোর্টের আওতায় ৩২৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই সময় ৩টি অবতরণ কেন্দ্র ৬২টি মাছ ঘাট ও ৪৭৭টি আড়ৎ এবং ২৩২টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এই অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩২কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে এবং তা বিভিন্ন এতিমখানায় অভিযানের দিনই বিতরণ করা হয়েছে। শেষ দিন পর্যন্ত এই অভিযানে ১কোটি ৫৬লাখ ৪৩হাজার ৫০০টাকা মূল্যের ৭লাখ ৯৪হাজার ৬০০মিটার জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই সময় ১৩টি মামলায় ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ কর্তৃক নিয়মিত মামলা হয়েছে।
জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে কাঠালিয়ায় উপজেলায় ১২টি মোবাইল কোর্টের আওতায় ৭৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ৩টি অবতরণ কেন্দ্র ও ৩০টি মাছ ঘাট, ৭টি আড়ৎ এবং ৫৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযানে জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক এই উপজেলায় ৮২কেজি মাছ জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ মিটার জাল আটক করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানকালীন সময়ে কেউ গ্রেফতার হয়নি এবং মামলাও দায়ের হয়নি।
সদর উপজেলায় ২২টি মোবাইল কোর্টের আওতায় ৮২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ১৫৬টি আড়ৎ এবং ৫৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযানে এই উপজেলায় ২০ কেজি মাছ জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ৩৯লাখ ৮৭হাজার ৫০০টাকা মূল্যের ১লাখ ৫৯হাজার ৫০০মিটার জাল আটক করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানকালীন সময়ে নৌ পুলিশ কর্তৃক ৩টি মামলা দয়ের হয়েছে, তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি।
নলছিটি উপজেলায় ১৬টি মোবাইল কোর্টের আওতায় ৮৬টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ৩২টি মাছ ঘাট, ৮৬টি আড়ৎ এবং ৫৩টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এই উপজেলায় ১৫ কেজি মাছ জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ৩৯ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ২লাখ ৯১হাজার ৪০০মিটার জাল আটক করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানকালীন সময়ে ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২জনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রাজাপুর উপজেলায় ২০টি মোবাইল কোর্টের আওতায় ৮২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ২২৮টি আড়ৎ এবং ৭১টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। এই উপজেলায় ১৬কেজি মাছ জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ৪৩লাখ ৩০হাজার টাকা মূল্যের ২লাখ ১৬হাজার ৫০০মিটার জাল আটক করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানকালীন মামলায় ৭জনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলায় ৭জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এই অভিযান চলাকালে নলছিটিতে সুগন্ধা নদীতে ইলিশ রক্ষায় অভিযান শেষে ফেরার পথে মৎস্য বিভাগের আভিযানিক টিমের সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার কুমারখালী-জাঙ্গালিয়া-সংলগ্ন নদী এলাকায় ১২টি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে এসে দুষ্কৃতকারীরা রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এই ঘটনায় মৎস্য বিভাগ বাদী হয়ে নলছিটি থানায় ১১জনকে এজাহার নামীয় আসামী ও আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।
মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে মাছ ধরা প্রতিহত করার জন্য রাত-দিন বিরতিহীনভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা তাদের সাথে কিছু মৌসুমি জেলেদের নিয়ে অবাধে চোরাগুপ্তা মাছ ধরেছে।
মৎস্য বিভাগ ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী প্রধানত এই দুই নদীর ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভিযান চালিয়েছে এবং এরমধ্যে মাটিভাঙ্গা, দেউরি ও পালট এলাকার জেলেরা কোন ধরনের এই সময়ের কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে না এবং অনেক সময় তারা অভিযান পরিচালনাকারীদেরও আক্রমণ করে। এই ৩টি এলাকায় প্রধানত মৎস্য বিভাগ নজর রেখেছে বেশি।