ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শীতের আমেজ, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১৮:২০, ১ নভেম্বর ২০২৬
শীতের আমেজ, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি
খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন গাছিরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটে দিনে রোদের তাপ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীতের হাওয়া। শেষ রাতে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে গায়ে জড়াতে হচ্ছে কাঁথা-কম্বল। ভোরে ঘাস ও আমন ধানের পাতায় জমছে শিশির। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির প্রস্তুতি। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন গাছিরা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। আগামী কয়েক দিনে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লালমনিরহাটে আগেভাগেই শীতের আবহ তৈরি হয়। এবারও কার্তিকের শুরু থেকেই সন্ধ্যার পর হিমেল বাতাস ও ভোরের শিশিরে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চাষ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৭৫ টন।

জেলার ৪৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টি ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ বেশি হয়। এসব এলাকার মাঠে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, ধনেপাতা, গাজর ও মুলার আবাদ চলছে। ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

তবে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি খরচ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকটে চাষাবাদের ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর আশা করছেন তারা।

পৌর এলাকার ভাটিবাড়ী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কার্তিক মাসের শুরু থেকেই সন্ধ্যার পর ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। হালকা কুয়াশা, শিশিরভেজা সকাল ও হিমেল বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা মিলছে। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিবছরই কিছুটা আগে শীতের প্রভাব দেখা যায়।

সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এলাকার কৃষক নাল্টু মিয়া বলেন, দিনের বেলায় রোদে গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যার পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে। এ সময় গরম কাপড় ও কাঁথা-কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে লেপ-তোশক তৈরি, খেজুরের রস সংগ্রহ এবং শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। তবে বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় এবার সবজি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আরেফিন বলেন, দিনের রোদ ও রাতের ঠান্ডা আবহাওয়া আগাম শীতকালীন সবজি চাষের জন্য উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা দ্রুত ফসল বাজারজাত করতে পারবেন এবং ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!