১৫ মাস কাজ করিয়ে বেতন বকেয়া, তারপর অব্যাহতি
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৫ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কর্মীরা।
তাদের অব্যাহতির পেছনে ঘুষ নেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজের মালিক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিভিল সার্জন বলেছেন, ‘ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ২৬ অক্টোবরের এক চিঠিতে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং জনবলের প্রায় ১৫ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত পালন না করায় রাজস্ব খাতের কর্মচারীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রেখে আউটসোর্সিং কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কর্মীদের অব্যাহতির পর কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড এবং বারান্দায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজের মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, আমাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করবেন—এমন শর্তে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তিকে উপেক্ষা করে একযোগে জেলার সব আউটসোর্সিং কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘুষ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই সিভিল সার্জন কর্মীদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। ঘুষ চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা পরিশোধের অনিশ্চয়তা থাকায় কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। দ্রুতই তাদের পুনর্বহাল করা হবে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশে কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এক বছরের বেতন-ভাতার অর্থ ইতিমধ্যে আইবাসে (iBAS) এসেছে।
তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ায় হাসপাতালের নিয়মিত সেবা কার্যক্রমে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। রাজস্ব খাতেও কর্মীর সংকট রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মীরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ অন্যরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বেতন না পাওয়ার দায় কর্মীদের নয় বলেও দাবি করেন তারা।
কর্মীদের দাবি, ইতিমধ্যে এক বছরের বেতন-ভাতার অর্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে জমা হয়েছে। শুধু অর্থ ছাড়ের অপেক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান তারা।