নদীর ঘাটে মিলল অজ্ঞাত দুই মরদেহ, মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত
খুলনায় ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর এবার রূপসা উপজেলায় নদীর ঘাট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার সিংহেরচর এলাকার আলম মেম্বারের নদীর ঘাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। তাদের মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত দেখা গেছে। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে নদীর কাদার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরও একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ সময় নদীর দুই পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর জোয়ারের পানিতে মরদেহ দুটি ভেসে ওই এলাকায় এসেছে। একজনের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর এবং অপরজনের ৪০ থেকে ৪২ বছর হতে পারে। তাদের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, মরদেহ দুটি নদীর চরে আটকে ছিল এবং সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। উভয়ের মাথায় রক্তাক্ত ক্ষতও দেখা গেছে। তবে কীভাবে এসব ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি দাবি করেন, মরদেহ দুটির একজন ওই ঘাটের ট্রলারচালক। তবে অপর ব্যক্তির পরিচয় তিনি জানেন না।
এর আগে গত শনিবার রাতে নগরের দারোগাপাড়া এলাকায় চাপাতির কোপে শহিদুল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হন। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা থানার রায়মহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন তাঁতী দলের নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির।
দুটি হত্যাকাণ্ডের পর নদীর ঘাট থেকে একসঙ্গে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মরদেহ দুটির মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের আগে তাদের হত্যার শিকার হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ বলছে, মরদেহ দুটির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: মূল কপিতে ২০ ঘণ্টার ব্যবধানের কথা বলা হলেও শনিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময় ২০ ঘণ্টার বেশি হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় যাচাই করে শিরোনাম ও প্রথম অনুচ্ছেদে ব্যবধানের তথ্য রাখা ভালো।