সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক বন্ধ করে উধাও কর্তৃপক্ষ
লালমনিরহাট শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর আদরী বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসকদের অবহেলা ও সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের মালিক ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লিনিকটিতেও তালা ঝুলছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) শহরের সাপটানা রোডে অবস্থিত নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত শনিবার প্রসব ব্যথা শুরু হলে আদরীকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে রংপুর অথবা অন্য কোনো উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় বিজলী নামে এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিকে ভর্তির পর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য তাদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর আদরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। একপর্যায়ে রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়। স্বজনরা রক্তের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তবে সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা আদরীর নিথর দেহ দেখতে পান।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লিনিকের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে চলে যান। পরে ক্লিনিকটিতে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।