কৃষকের সার কোথায় যাচ্ছে; ভোলায় ২৯০ বস্তা আটক, গোডাউন সিলগালা
ভোলার ইলিশায় নদীপথে জেলার বাইরে সার পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা সার আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে একটি গোডাউন সিলগালা করেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাশ। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকা থেকে ওইসব সার উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য সেগুলো নেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নদীপথে ভোলা থেকে মাদারীপুরে সার নেওয়ার সময় সন্দেহ হলে একটি ট্রলার ও একটি নসিমন থেকে ২৯০ বস্তা আটক করেন এলাকাবাসী। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি সার।
ট্রলারের মাঝি শহীদ জানান, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে এগুলো কিনেছেন। বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তার মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছিল। পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
কৃষক রফিকও একই দাবি করে বলেন, চাষের কাজে ব্যবহারের জন্য কিনে সেগুলো চরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয়রা ভুল বুঝে আটক করেছেন। তবে কেনার পক্ষে কোনো মূল্য পরিশোধের রসিদ দেখাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ট্রলারের মাঝি শহীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের দাম প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। তার প্রশ্ন, ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা এলো কোথা থেকে?
তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় সারগুলো অন্য জেলায় নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।
কৃষক মাকসুদের অভিযোগ, ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলনের পর বেশি দামে বিক্রির জন্য অন্যত্র পাঠান। এতে স্থানীয় চাষিরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তার দাবি, মাঠপর্যায়ে সংকট থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা করছেন।
অন্যান্য কৃষকের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের দাম ঘন ঘন বাড়ছে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ডিলার পয়েন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকরা এগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে রাতে উদ্ধার করা ২৯০ বস্তা সার স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সেটি সিলগালা করেন ইউএনও সজল কুমার দাশ। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেগুলো গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।