ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতার অভিযোগ পুলিশের

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতার অভিযোগ পুলিশের
শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতার অভিযোগ পুলিশের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুলেছে অধিকাংশ পোশাক কারখানা। কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা, স্বাভাবিক রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল। তবে নতুন করে সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ১৩ প্লাটুন বিজিবি এবং দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

এদিকে চলমান ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলন বলতে নারাজ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে মিশে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, 'বর্তমান ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলন বলা যায় না। একটি অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।' শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে এসব হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আন্দোলন চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে পুলিশের সঙ্গে থেকে পোশাকশ্রমিকদের প্রতিহত করার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একটা সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা যেত। বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশের সঙ্গে থেকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী। রাষ্ট্রের জানমাল রক্ষা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। কোনো সরকারি দলের নেতাকর্মী কিংবা অন্য কেউ গুন্ডামি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে পুলিশ তা উৎসাহিত করে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!