শারীরিক অসুস্থতা দমাতে পারেনি ভোটের আগ্রহ, হুইলচেয়ারে চড়ে ভোট দিলেন ৬৫ বছরের কিশোর
জহুরুল আলম খাদেম কিশোর। বয়স ৬৫ ছুঁই ছুঁই। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। চলাফেরায় নির্ভর করতে হয় অন্যের ওপর। তবু ভোট দেওয়ার আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়েনি তাঁর। তাই হুইলচেয়ারে বসে ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর মাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন তিনি।
হুইলচেয়ারে বসেই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন কিশোর। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের অনেক স্মৃতি বুকে নিয়ে এবারও মাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো ছিল। এই নির্বাচন শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ নয়, মাজারের প্রতি ভালোবাসা, এলাকার ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্কেরও প্রকাশ।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে চাকরি করতেন। অনেক দিন আগে অবসরে গেছেন। পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন। তাই এলাকায় তেমন আসা হয় না। তবে নির্বাচনে ভোট দিতে এসে দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে শরীর তেমন ভালো নেই। জানি না, মাজার পরিচালনা কমিটির আর কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারব কি না। তাই এবার ভোট দিতে এসেছি। তবে শুধু নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতেই নয়, এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রত্যাশা নিয়েও ভোট দিতে এসেছি।
কিশোর বলেন, চাকরি হওয়ার আগে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সময়কার নির্বাচনী পরিবেশ ছিল ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে ভোটের আয়োজন, বেড়েছে মানুষের সচেতনতা, এসেছে নতুন প্রজন্মের ভোটার। কিন্তু মাজারের প্রতি মানুষের আবেগ এবং পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ আজও অটুট রয়েছে।
দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এত বছর ধরে এই নির্বাচন দেখে আসা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মাজারের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ভোট দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। তাঁর মতে, এই নির্বাচন এলাকার ঐতিহ্য, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খড়মপুর গ্রামটি সাতটি পাড়ায় বিভক্ত। প্রতিটি পাড়া থেকে তিনজন করে মোট ২১ জন সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার প্রায় এক হাজার ১০০ জন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কফিলউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।