কাজিপুরের সবজি এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী, ঢেকুরিয়া, মেঘাই, নাটুয়ারপাড়া, কুমারিয়াবাড়ী ও সিমান্তবাজারে প্রতিদিন বাড়ছে শীতকালীন সবজির আমদানি। ফলে সব ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। শীতকালীন সবজি ছাড়াও সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির দামও কমতে কমতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে অনেকটাই চলে এসেছে।
সরেজমিনে পাইকারি বাজার ঘুরে জানা গেছে, কিছু দিন আগেই বাজারে উঠেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বরবটি, শিম, মুলা সহ নানা শীতকালীন সবজির। কিন্তু আমদানি বেশি না হওয়ায় দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। গত কয়েকদিনে পুরোপুরি পাল্টে গেছে চিত্র। প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বরবটি, সীম ও অন্যান্য শীতকালীন সবজির আমদানি বাড়ছে। তাই মূল্যও অনেকটা কম।
সোনামুখী ও মেঘাই পাইকারি বাজারে বর্তমানে শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চিকন বেগুন ২৫ টাকা, গোল বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ২৫-৩০ টাকা, পটল ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং মূলা ৫ থেকে ১০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে পেঁপের দাম।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৭ টাকা কেজি দামে। এছাড়াও গত দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দাম হলেও বাজারে নতুন মরিচের আমদানি বাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে অর্ধেক দামে নেমে এসেছে। গত এক মাস আগেও কাঁচামরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মেঘাই বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও নাটুয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মান্নান জানায়, শীতকালীন সবজির আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেগুন, মূলা, পটল, শাকসবজি, পেঁপে সহ সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে লাল পাকড়ি আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। মূলা, কাঁচা মরিচের দাম কমেছে সঙ্গে পেঁপের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের সবজির দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মাছ মাংসের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সবজির দাম। কিন্তু শীতকালীন সবজির আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে অসৎ ব্যবসায়ীরা যাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়াতে না পারে সে বিষয়ে সরকার, প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সব সময় বাজার মনিটরিং করার আহ্বান জানান এলাকার সচেতন মহল।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ কর্মকর্তা মোঃ শারিফুল ইসলাম জানান, এবছর কাজিপুরে শীতকালীন সবজির আবাদ হওয়ায় দাম অনেকটাই কম। তিনি আরও বলেন, উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে।