এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাংকগুলো ডলার জমা দিয়ে টাকা ধার নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে।
নতুন এ ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সর্বনিম্ন ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ ডলার লেনদেন করতে পারবে। আর সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য টাকা-ডলার অদলবদল করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
.png)
সোয়াপ (Swap) মানে হচ্ছে বিনিময় করা বা অদলবদল করা। ফিন্যান্সের ভাষায়, সোয়াপ বলতে বুঝায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর দুইটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে কোনো একটি আর্থিক হাতিয়ারের পরিবর্তে অন্য আরেকটি আর্থিক হাতিয়ারের বিনিময়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ডলার সংকট সামলাতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় সহজ করতে সোয়াপ চালু করা হয়েছে। এতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো জোরজবরদস্তি করছে না। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোয়াপ চালুর পরেই ১২টি ব্যাংক থেকে টাকার বদলে ৫৮৮ মিলিয়ন ডলার নেয়া হয়েছে, যা রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক বলা যায়। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নজরে থাকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৩০ দিন মেয়াদী এসব টাকা-ডলার অদলবদলের সোয়াপ হয়েছে। ৩০ দিন শেষ হলেই ব্যাংকগুলো টাকা দিয়ে ডলার নিয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা জমা রেখে কোনো ব্যাংক এখনো ডলার নেয়নি। মূলত যাদের রেমিট্যান্স বেশি আসছে, তারাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সোয়াপ করতেছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ১১০ টাকা দরে ব্যাংকগুলো প্রবাসী ও রফতানি আয় কিনছে। এই দামে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার অদলবদল করেছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার নিয়ে সমপরিমাণ টাকা দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।
ব্যাংকগুলো ডলার জমা দিয়ে টাকা ধার নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। ২০ ফেব্রুয়ারি বেড়ে হয় ২০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। গত সোমবার দিন শেষে রিজার্ভ আরও বেড়ে ২০ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসেবে ওই দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।