কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে পাওয়া এ ডলারও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হচ্ছে। এরপরও রিজার্ভের পতন থামানো যাচ্ছে না।
সবশেষ গত ২৪ মার্চ রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। মূলত এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকুর) আমদানি বিল পরিশোধ এবং সরকারের বিভিন্ন জরুরি পণ্য আমদানিতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রাখায় রিজার্ভের পতন হচ্ছে।
.png)
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগে থেকেই আন্তঃব্যাংক কারেন্সি সোয়াপ চালু ছিল। তবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এ সোয়াপ চালু করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নিয়মানুযায়ী এ পদ্ধতির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার রেখে ৭ থেকে ৯০ দিনের জন্য নগদ টাকা নিতে পারে ব্যাংক। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সুদসহ এই নগদ টাকা ফেরত দিয়ে আবার ডলার ফেরত নিতে পারবে।
এক্ষেত্রে সুদহারের হিসাব হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার রেপো এবং ডলারের তিন মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক রেট সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিংয়ের (এসওএফআর) মধ্যকার পার্থক্যের ভিত্তিতে। বর্তমানে রেপোর সুদহার ৮ শতাংশ এবং এসওএফআর ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফলে ব্যাংকগুলো এখন ডলার রেখে ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদ পাচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতি চালু হলেও ব্যাংকগুলো ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ডলার জমা রেখে নগদ টাকা নিতে শুরু করে। এ পদ্ধতির আওতায় এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেখেছে ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এসব ডলারের দাম ঠিক করা ১১০ টাকা। ফলে এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রায় ১৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা তথা নগদ টাকা নিয়েছে। তবে কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় এই পৌনে ২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে ঢুকলেও রিজার্ভের পতন থামানো যায়নি।