আল-আরাফাহ্ ব্যাংক থেকে ৪ স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগ
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনার পর তারা পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগ করা চার পরিচালক হলেন—মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। তাদের মধ্যে কেউ সাবেক ব্যাংকার, হিসাববিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
.png)
পদত্যাগ করা এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। এরপরই তারা পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে স্বতন্ত্র পরিচালক সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন স্বতন্ত্র পরিচালককে রেখে বাকি চারজনকে পদত্যাগ করতে বলা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কয়েকজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যাংকটির নিরীক্ষা করা হয়। এসব নিরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে ছিল এস আলম গ্রুপ ও কেডিএস গ্রুপ। ওই সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আর্থিক খাতের বিতর্কিত ব্যক্তি এস আলমের ভাই আবদুস সামাদ লাবু এবং কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। দুই গ্রুপের মালিকপক্ষই চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মালিকানার সঙ্গে যুক্ত দুই পক্ষই তৎপর হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির পরিচালনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সক্ষম হয়।
পরে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে ব্যাংকটির পুরোনো ১৪ জন শেয়ারধারীকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।
চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে কেডিএস গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।