পড়াশোনার পাশাপাশি জার্মানিতে ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ
জার্মানিতে পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে ২০ ঘণ্টা। সে হিসেবে মাসে কাজ করা যায় প্রায় ৮০ থেকে ৮৭ ঘণ্টা। কাজ বাবদ ঘণ্টায় অন্তত ১০ ইউরোর মতো আয় করা খুবই সহজ।
কাজভেদে সেই আয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৫ থেকে ১৮ ইউরো পর্যন্ত। বড় শহরে কাজ পাওয়া যায় জলদি। ছোট শহরেও যে কাজ নেই, এমনটা নয়। সব মিলিয়ে নিজের বসবাস ও খাবার খরচ জোগানো কঠিন কিছু নয়। সচরাচর ম্যাকডোনাল্ডস, বার্গার কিং, অ্যামাজন, ডয়েচ পোস্টসহ রেস্টুরেন্টগুলোয় কাজ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। মিনি জব বা চুক্তিভিত্তিক কাজেরও অভাব নেই।
আর হ্যা, খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কাজের বেতন থেকে কর কাটা হয়, যা কিনা নথিভুক্ত থাকে সোশ্যাল সিকিউরিটিতে; মিনিজবে ৪৫০ ইউরোর মতো আয় হওয়ায় কর নেই।
.png)
স্কলারশিপ
জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে DAAD এবং Erasmus স্কলারশিপ বেশ পরিচিত। এর বাইরেও কিছু স্টেট ফান্ডেড, ইউনিভার্সিটি ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে। কিন্তু সবেমাত্র পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য সে সব স্কলারশিপের নির্ণায়ক পূরণ বেশ কঠিন। DAAD-এর ক্ষেত্রে যেমন ছয় বছরের বেশি পুরোনো ব্যাচেলর ডিগ্রি হওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে দুই বছর চাকরির অভিজ্ঞতা, জার্মান ভাষা জানা এবং আইইএলটিএসের স্কোর ৬.০০-এর ওপর থাকা বাঞ্ছনীয়। জার্মানিতে টিউশন ফি নেই। তবে প্রতি সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ২৫০-৩১৫ ইউরো সেমিস্টার কন্ট্রিবিউশন দিতে হয়। সেমিস্টার কন্ট্রিবিউশনের সঙ্গে যাতায়াত বা ট্রান্সপোর্ট খরচ যুক্ত থাকে।
ভর্তির সময়
সামার বা গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারে জানুয়ারির মাঝামাঝি ভর্তির শেষ সময়। উইন্টার সেমিস্টারের ক্ষেত্রে সময়টা জুলাই মাসের মাঝামাঝি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উইন্টার সেমিস্টারেই ভর্তির সুযোগ বেশি। আবেদন করার সময় ভালো মানের একটি মোটিভেশন লেটার, ইউরোপাস সিভি, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের অনুলিপি এবং প্রশংসাপত্র; আইইএলটিএসের প্রশংসাপত্র, ব্লক অ্যাকাউন্টের অনুমোদন জরুরি। পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট পাওয়া যাবে জার্মান অ্যাম্বাসির ওয়েবসাইটে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সচরাচর জার্মান স্কেলে ২.৫ সিজিপিএ চায়। সিজিপিএ কম হলেও আইইএলটিএসের স্কোর ৬.৫ কিংবা তার বেশি, নিয়মিত পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম, চাকরির অভিজ্ঞতা সুবিধা দেবে।
মোটিভেশনাল লেটারে ব্যক্তিত্ব, লক্ষ্য, নির্দিষ্ট বিষয়টি কেন বাছাই করলেন এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়টি কেন পড়াশোনার জন্য বেছে নিলেন, সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে পারলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শক হিসেবে ফেসবুকে বেশ কিছু গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপগুলোর ফাইল সেকশন বেশ তথ্যবহুল এবং ভালোই সাড়া পাওয়া যায় পোস্টের মাধ্যমে। বিসাগ (BSAAG), বেসিগ (BESSiG), বিএসএফজি (BSFG), বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ফোরাম জার্মানিসহ জার্মানপ্রবাসীদের ব্লগ থেকেও আমি অনেক তথ্য পেয়েছিলাম।
লেখক: রাফি মোহা. ইয়াসিন রহমান, শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তর, জার্মানির ফ্রেডরিখ শিলার ইউনিভার্সিটি ইয়েনায়।