ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ব্যানার ছেড়ার অপসংস্কৃতি শুরু হলো চুয়েটে 

চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৯, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১
ব্যানার ছেড়ার অপসংস্কৃতি শুরু হলো চুয়েটে 
চুয়েট সাংবাদিক সমিতির প্রতিবাদলিপি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ইদানীংকালে ব্যানার ছেড়ার মতো অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাতের আধারে কোনো একটি গোষ্ঠী চুয়েট সাংবাদিক সমিতির একটি বড় ব্যানার সরিয়ে ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার সংলগ্ন পদ্ম-পুকুর এলাকায় ১০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট প্রস্থের অরাজনৈতিক এই ব্যানারটি টাঙানো ছিলো। 

চুয়েটের শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা যাতে যে কোনো প্রয়োজনে চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সেই লক্ষ্যে গত ৫ ডিসেম্বর ব্যানারটি টাঙায় চুয়েট সাংবাদিক সমিতি। সেখানে সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের পদবি এবং মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত ছিলো।

Advertisement

জানা গেছে, টাঙানোর পর গত ১৩ তারিখ প্রথমবার ব্যানারটি ছেড়ার চেষ্টা করা হয়। তখন সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা ব্যানারটির ছেড়া অংশ জোড়া লাগায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবিরকে অভিযোগ জানায়। পরবর্তীতে গত ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যানারটি সেখানে বহাল তবিয়তে ছিলো। 

কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ব্যানারটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ২২ তারিখ রাতের আধারে কেউ বা কোনো একটি গোষ্ঠী ব্যানারটি ছিঁড়ে নিয়ে চলে যায়। ব্যানার ছেড়ার পর তা গায়েব করার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এরইমধ্যে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি তাদের নিজেদের ফেসবুক পেইজ চুয়েটনিউজ২৪ থেকে প্রতিবাদলিপি দিয়েছে। এছাড়া গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে চুয়েট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের আচরণ চুয়েট ক্যাম্পাসে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যদি এমন কাজ অব্যাহত থাকে তাহলে অন্যান্য অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলবে। 

এছাড়া যেহেতু শহীদ মিনার সংলগ্ন উক্ত স্থানে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে তাই দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং যথোপযুক্ত তদন্ত করে উক্ত নিন্দনীয় কাজে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তবে তিনি সিসিটিভি ফুটেজের ব্যাপারে পরবর্তী কার্যদিবস রোববারে চুয়েট সাংবাদিক সমিতিকে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি চুয়েটের একমাত্র প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক সংগঠন। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে চুয়েট সাংবাদিক সমিতি নিরলসভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে আসছে। শিক্ষার্থীরা আশংকা করছেন যে, এধরনের কর্মকাণ্ড চুয়েট সাংবাদিক সমিতির স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ব্যাহত করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!