ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত ঢাবির চারুকলা প্রাঙ্গণ 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি 
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ১৩ এপ্রিল ২০২২
শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত ঢাবির চারুকলা প্রাঙ্গণ 
মঙ্গল শোভাযাত্রা আর নানা সাজসজ্জা করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। 

আজ বাদে কাল শুরু হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। দিনটিকে বরণ করে নিতে বাহারি সাজে সাজছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ। মঙ্গল শোভাযাত্রা আর নানা সাজসজ্জা করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। 

এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান ‘নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’। মহামারি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থাকে স্বাগত জানানো হবে এবারের পয়লা বৈশাখে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যাতে থাকবে সব হিংসা-বিদ্বেষ, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তির আহ্বান। 

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি। ২০২১ সালে হয়েছে সীমিত পরিসরে। তাই এবার জমজমাটভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করতে বেশ উদ্যমে কাজ করছেন আয়োজকরা। আয়োজনে অংশ নেয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকবে চারটি বিশালাকৃতির শিল্পকাঠামো। সেগুলো হচ্ছে টেপা পুতুল, মাছ, পাখি ও ঘোড়া। এগুলোর সঙ্গে বিশাল আকৃতির চরকিও থাকবে। যা পুষ্পের আকৃতিতে তৈরি হচ্ছে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে হাতে রাজা-রানী, বাঘ, পেঁচার মুখোশসহ লোকজ নানা অনুষঙ্গ শোভা পাবে। 

Advertisement

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারুকলা জয়নুল গ্যালারির সামনের চত্বরে নবীন আঁকিয়েরা এখন বেশ ব্যস্ত। গভীর মনোযোগে কেউ আঁকছেন জলরঙের ছবি, কেউ নকশা করছেন মাটির সরায়, কেউ কেউ বানাচ্ছেন বাহারি মুখোশ। চারুকলার প্রাচীরগুলো সেজেছে রঙবেরঙের আলপনায়। শেষ মুহূর্তে এসে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশালাকৃতির শিল্পকাঠামো নির্মাণে কাজ চলছে জোরেসোরে। টেপাপুতুল, ঘোড়া, ফুল, পেঁচা, মাছসহ নানা রকমের শিল্পকর্ম তৈরি করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। লোকজন কিনতে আসছেন। এসব শিল্পকর্ম বিক্রির টাকা দিয়েই পয়লা বৈশাখের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। 

প্রতিবছর মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে অনুষদের সিনিয়র ব্যাচ। তাই এবার এসব কর্মযজ্ঞের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলার ২২ ও ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। 

প্রাচ্যকলা বিভাগের ২৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সিনিয়র যারা ২২ ব্যাচের তাদের গতবছরের (২০২০ সাল) মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের কথা ছিলো। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সম্ভব না হওয়ায় দুই ব্যাচ একসঙ্গে এই আয়োজন করছি৷ সব কাজ সুন্দরভাবে এগোচ্ছে। আমাদের হাতে কালকের দিনটা বাকি আছে, আশা করছি সব কাজ তার আগেই শেষ হয়ে যাবে। শিক্ষকরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করছেন। পহেলা বৈশাখ মানেই আমাদের প্রাণের উৎসব। এটি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি সার্বজনীন বাঙালি উৎসব। 

বাংলা নববর্ষ উদযাপন সফল করতে ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এবারের বাংলা বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বিষয়ে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্মাণাধীন মেট্রো রেলের কারণে চলাচলের পথ সরু থাকায় এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা টিএসসি সড়কদ্বীপ থেকে বের করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রা স্মৃতি চিরন্তন হয়ে পুনরায় টিএসসিতে গিয়ে শেষ হবে। বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান বিকাল পাচটার মধ্যে শেষ করতে হবে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের বানানো মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা যাবে না। 

নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না। মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!