কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সেসব দিক থেকে মাছ চাষ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঙ্গন।
মাছ চাষে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয় খাবার সরবরাহে। তবে এবার মাছ চাষের খাবারের খরচ কমানোর পাশাপাশি খামারিরা নিজেই খামারের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারবে। এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং এন্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের খাদ্য তৈরির মেশিন উদ্ভাবন করেছেন।
.png)

সাউ ফিড মিল-১ নামক এই মেশিনটি তৈরি করতে মোট সময় লেগেছে দেড় বছর। মেশিনটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
সাউ ফিড মিল-১ এর উদ্ভাবক মাসুদ রানা বলেন, ‘মাছ চাষিদের খাবারের সরবরাহ ও খরচ কমাতে মেশিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ মৎস্য খাদ্য। যেহেতু খামারি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজেই খাদ্য উৎপাদন করবে সেক্ষেত্রে খাদ্য যেমন নিরাপদ হবে তেমনি ঐ খাদ্য প্রয়োগ করে উৎপাদিত মাছও নিরাপদ হবে।'
উদ্ভাবিত মেশিনটির বিশেষত্ব সম্পর্কে মাসুদ রানা বলেন, ‘একই মেশিন দিয়ে খামারি মাছের ভাসমান ও ডুবন্ত উভয় প্রকার খাদ্য তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি মেশিনটি দিয়ে ০.৫ মিলি থেকে ৫ মিলি আকারের সব প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির খাদ্য তৈরি করা যাবে। মেশিনটিতে এডভান্সড মিলিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে ফলে এটি একটানা ১০-১২ ঘণ্টা খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কেজি খাবার উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতি কেজি খাদ্য উৎপাদনে খরচ হবে ৩৮-৪০ টাকা যা বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফিড মিল ৫৮-৬০ টাকায় কিনতে হয়। ফলে প্রতিকেজি খাবারে ২০ টাকা খরচ কমবে।’

তিনি বলেন, উদ্ভাবিত মেশিনটি দিয়ে মাছের খাদ্যের পাশাপাশি হাঁস, মুরগী, কবুতরসহ অন্যান্য যেকোনো পাখির খাদ্য তৈরি করা সম্ভব যা মৎস্য সেক্টরের পাশাপাশি পোলট্রি শিল্পে এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।
শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ফিস ইন্ডাস্ট্রির একটি লিংক তৈরি হলো। শিক্ষকদের মেধা দিয়ে গবেষণা করতে হবে। কৃষি বিজ্ঞানকে দেশের অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’