জানা যায়, প্রতিবছর বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের গণরুমে থাকতে হয়। এছাড়াও ৪ আসনবিশিষ্ট রুমে ৮ জন থেকে ১৬ জন করেও আসন দেওয়া হয়। তাই শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসনের লক্ষ্যে ২০২০ সালে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছেলেদের জন্য শেখ লুৎফর রহমান হল এবং মেয়েদের জন্য শেখ সাহেরা খাতুন হল নামের দুইটি আবাসিক হলের কাজ শুরু করে শেকৃবি প্রশাসন।
২০২২ সালের জুন মাসে হলগুলোর নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়। তবে, এ বছর শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি কোনো আসন। হলের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেও আবাসন বরাদ্দ না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
.png)

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাদের শেখ লুৎফর রহমান হল এবং শেখ সাহেরা খাতুন আবাসিক হলের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় আমরা এবছর শিক্ষার্থীদের হলে তুলতে পারিনি। আসলে লোকবলের নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আগের অর্গানোগ্রামে ছিল না যখন হলের কাজ শুরু হয়। আগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গের ভুলের কারণে আমাদের এই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তবে আমরা নতুন অর্গানোগ্রামে লোকবল নিয়োগের বিষয় সংযুক্ত করেছি। আশাকরি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব।'
হলে সিটবিহীন গণরুমে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের আবাসিক হলগুলোতে গণরুমে থাকতে হয়। নবাব সিরাজুদ্দৌলা হলে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টিভি রুমে মেঝেতে থাকে। অনন্য হলগুলোতেও সিটবিহীন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে এরই মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার সিটবিশিষ্ট দুইটি আবাসিক হল খালি পড়ে আছে। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সিট সমস্যার সমাধান চাই।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন,‘হলগুলোর কাজ শুরুর সময় অর্গানোগ্রামে লোকবলের বিষয় উল্লেখ না থাকা এবং নিয়োগ জনিত সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীদের তুলতে পারছি না। তবে আমরা বিকল্প পরিকল্পনা করছি। যদি সাময়িক লোকবল নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে উন্মুক্ত করা যায় আমরা করব। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পরিকল্পনা করছি।’