ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

দেশে পাওয়া গেল নতুন জাতের সাপ

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
দেশে পাওয়া গেল নতুন জাতের সাপ
দাগি ঘাড় ঢোড়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের সাপের তালিকায় নতুন আরেক নাম যুক্ত হয়েছে। এই সাপের নাম রাখা হয়েছে দাগি ঘাড় ঢোড়া। এটি মূলত ঢোড়া সাপ গোত্রের। ফলে অন্য ঢোড়া সাপের মতোই এই দাগি ঘাড় ঢোড়াতেও বিষ নেই।

পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশনের (ডিইএসআরএফ) চারজন গবেষক সাপটি চিহ্নিত করেছেন। দাগি ঘাড় ঢোড়া সাপের বিস্তারিত তথ্যসহ একটি গবেষণা প্রবন্ধ সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী বাংলাদেশ জার্নাল অব জুয়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা হলেন- ডিইএসআরএফের প্রতিষ্ঠাতা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিকাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের আশিকুর রহমান শোমি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইফতিকার মাহমুদ এবং আদনান আজাদ আসিফ।

Advertisement

এই গবেষকরা বলছেন, নতুন পাওয়া সাপটি বেশ সরু আর দেড় থেকে দুই ফুট দৈর্ঘ্যের। এটি সাধারণত নদী, জলাশয় ও পুকুরে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও নড়াইলের তুলারামপুরে এই সাপ দেখা গেছে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানেও সাপটি রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।

তবে অন্যান্য ঢোড়া সাপের সঙ্গে এই সাপের কিছু পার্থক্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, দাগি ঘাড় ঢোড়ার ঘাড়ের মধ্যে একটি বিশেষ দাগ আছে, যা সাধারণ ঢোড়া সাপ বা অন্য ঢোড়া সাপগুলোর মধ্যে নেই। যেকারণে এর নাম দেয়া হয়েছে দাগি ঘাড় ঢোড়া। এর আগে ১৯৭৭ সালে ভারত ও নেপালে এই জাতের সাপ দেখা গেছে।

ডিপ ইকোলজির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেড় বছর ধরে দেশে ওই সাপের উপস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তথ্যমতে, দেশে এর আগে ৯৩ প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে ঢোড়া সাপের ছয়টি প্রজাতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লাল ঘাড় ঢোড়া ছাড়া অন্য প্রজাতিগুলো যুক্ত হওয়ায় দেশে এখন সাপের প্রজাতি দাঁড়াল ৯৪টিতে।

বাংলাদেশের নতুন জাতের দাগি ঘাড় ঢোড়া সাপ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জানতে চাইলে গবেষক দলের অন্যতম সদস্য আদনান আজাদ আসিফ বলেন, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী নিয়ে গবেষণায় দেশের ১৬টি জেলার নদী ও জলাভূমিতে জরিপ করা হয়েছিল। সেখানে এই সাপটি বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। তবে তখন এই সাপটিকে সাধারণ ঢোড়া সাপ ভেবে এর ছবি সংগ্রহ করা হয়নি। ২০১৯ সালে বন্য প্রাণী বিষয়ক একটি বইয়ে বিশেষ দাগটি আমাদের নজরে আসে। এরপর তা অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে এবং বিশেষজ্ঞদের দেখানোর পর নিশ্চিত হই, এটা বাংলাদেশের নতুন জাতের দাগি ঘাড় ঢোড়া সাপ।

বাংলাদেশে সাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ঢোড়া সাপ। মাছের পুকুর, বিল, জলাশয়, খাল ও নদীতে এরা সবচেয়ে বেশি থাকে। মূলত ছোট মাছ, ব্যাঙ ও অন্যান্য ছোট প্রাণী খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। বিষ না থাকায় সাধারণত দেশের গ্রামাঞ্চলে এই সাপ দেখে মানুষ খুব একটা ভয় পায় না। দেশের অন্য ঢোড়া সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমালয় ঢোড়া সাপ, চেরাপুঞ্জি ঢোড়া সাপ, লাল ঘাড় ঢোড়া সাপ, নকশি ঢোড়া সাপ, ইমি ঢোড়া সাপ ও রঙিলা ঢোড়া সাপ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান বলেন, ‘নতুন প্রজাতির সাপ পাওয়ার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ভালোমতো গবেষণা করলে দেশে এ ধরনের আরো অনেক নতুন প্রজাতির সাপ পাওয়া সম্ভব।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে জলাভূমি কমে আসায় সাপের সংখ্যাও কমে আসছে। সাপ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কের কারণে দেশের যেখানেই সাপ দেখা যায়, সেখানেই স্থানীয় ব্যক্তিরা একে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। যে কারণে বাসস্থান কমে আসার পাশাপাশি মানুষের আক্রমণের শিকার হয়েও সাপ কমে আসছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মনিরুল হাসান খান বলেন, সাপ দেখলে অযথা ভয় না পেয়ে একে পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে সাপের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!