ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

অধ্যাপকের ছাদবাগানে ২৩৩ প্রজাতির জবা

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি
প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
অধ্যাপকের ছাদবাগানে ২৩৩ প্রজাতির জবা
নানা প্রজাতির জবা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অবাক করার বিষয় হলেও সত্য, একটি নয়- দুটি নয়; এক ছাদবাগানে ২৩৩ প্রজাতির জবা ফুটিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানারা বেগম। নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশী-বিদেশি ২৩৩ প্রজাতির জবার গাছ রোপণ করে এমন বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তিনি। প্রতিদিনই বাহারি রঙের সে ফুলগুলো ফুটছে তার ছাদবাগানে। 

ড. শাহানারা কৃষি অনুষদের ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অনার্স শেষ করে মাস্টার্স চলাকালে ২০০১ সালে বাকৃবিতে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এই অধ্যাপক। টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি থেকেও অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি।

ড. শাহানারা জানান, ‘জবা ফুলের প্রতি আগ্রহ হঠাৎ করে জন্মেছে। জবা ফুলের ২৩৩ ধরণের প্রজাতি হতে পারে সেই সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তার। একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে প্রথম জবা ফুল তাকে আকৃষ্ট করে। সেখানে জবা ফুলের বিভিন্ন ধরনের রং, ধরণ থেকে ভালো লাগা শুরু তার। 

Advertisement

মূলত করোনাকালে ছাদ বাগানকারীদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে করোনার ভেতরে বাড়িতে অলস বসে থাকার সময় ছাদ বাগানের কাজ শুরু করা হয়। অনেকের কাছে বিরল প্রজাতির জবার গাছ রয়েছে। তবে ২৩৩ প্রজাতির জবার গাছ বাংলাদেশে সম্ভবত অন্য কারো কাছে নেই।’ 

কিভাবে শুরু করলেন? বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘জবা ফুল বাগান করার উদ্যোগ আমার নিজেরেই। করোনা যখন পরিস্থিতি শীতল হওয়া শুরু করল, বাকৃবি ক্যাম্পাসের আশেপাশের নার্সারি থেকে জবা ফুলের নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের কাজ শুরু করি। একদম শুরুতে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের পাশের নার্সারি থেকে গাছ ক্রয় করি। এরপর আস্তে আস্তে সারা বাংলাদেশ থেকে  ফুলের চারা সংগ্রহ করতে থাকি। বর্তমানে কেনা হচ্ছে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ির ও বগুড়ার দুই-একটি নার্সারি থেকে। 
তিনি জানান, অনলাইন-অফলাইন দুই পদ্ধতিতে ফুল সংগ্রহ করা হয়। এরপর সাভার থেকে ফুলের চারা সংগ্রহ করি। এছাড়াও আমার স্বামী অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম একজন অধ্যাপক ও গবেষক। তিনি বাকৃবির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছে। তিনিও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজে কিংবা ভ্রমণে গেলে সেখান থেকে জবা ফুলের প্রজাতি সংগ্রহ করে নিয়ে আসে বাগানের জন্য।’

এত জবা ফুলের প্রজাতি সংগ্রহ করে আপনার এখন কেমন লাগছে, সে প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহানারা বলেন, ‘জবা ফুল দেখতে খুবই ভালো লাগে। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর নতুন ফুল দেখার অপেক্ষায় থাকা হয়। একেক দিন একেক ধরণের ফুল ফুটতে দেখা যায়। অবসর সময়ে ফুলের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত থাকা হয়। দিনে সকাল-বিকাল ফুলের পিছনে সময় দেওয়া হয়। দিনের অন্যান্য সময় ক্যাম্পাসে অধ্যাপনা ও গবেষণার কাজে সময় ব্যয় করার কারণে বিকালের সময়ে ছাদবাগানে সময় দেওয়া হয়।’ 

জবা ফুলের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. শাহানারা জানান, ‘জবা একদিনের ফুল। সকালে ফুটলে বিকালে ফুলের জীবন শেষ হয়ে যায়। সব ফুল একসময় ফোটে না। একেক দিন একেক প্রজাতির জবার ফুল ফুটে থাকে। জবা ফুল দুই দিন বা তিন দিন বেঁচে না থাকার কারণে সব ফুল একসঙ্গে দেখা যায় না। কয়েকদিন জবা ফুল টিকে থাকলে একসঙ্গে অনেক ফুল দেখা যেত। অন্যদিকে ফুলের সব ফুল একসঙ্গে দেখা যায় না। আবহাওয়ার তারতম্যের ওপর জবা ফুল ফোটা অনেকাংশ নির্ভর করে। অতিবৃষ্টি ও শীতল বৃষ্টির সময়ে কম সংখ্যক গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। আবহাওয়া ভালো অথবা খারাপের জন্য জবা ফুল কম-বেশি ফুটতে দেখা যায়।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. শাহানারা বলেন, ‘নিজের ভালোলাগা থেকে জবা ফুল চাষ করা। এই বাগানটি আমার অবসরের শান্তির জায়গা। যতদিন সুস্থ থাকব ততদিন আরো অনেক জবা ফুলের প্রজাতি সংগ্রহ করতেই থাকব। বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির জবা সংগ্রহ করে আমার বাগানে রাখতে চাই এটাই আমার পরিকল্পনা।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!