ক্যাম্পাসে নারী সাংবাদিকতা: যেন আঁধার পেরিয়ে আলোর বিচ্ছুরণ
সাংবাদিকতা বরাবরই চ্যালেঞ্জিং পেশা। কয়েক দশক আগেও এই পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ তেমন দেখা যেত না। কিন্তু, সব বাঁধা পেরিয়ে এই পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিন্তু, এক বুক স্বপ্ন নিয়ে এই পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলেও তারা কতোটা স্বাধীনভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ক্যাম্পাস প্রতিবেদকদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ডেইলি বাংলাদেশের তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা উপভোগ করতে পারলে এটা নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয়
আমি প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত আছি। যখন সাংবাদিকতায় আসি, তখন নারী শিক্ষার্থীরা তেমন আগ্রহী ছিলেন না। এমনকি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই নারী সাংবাদিক তেমন ছিল না। কিন্তু, বর্তমান চিত্র ভিন্ন। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতা করছেন, নেতৃত্বে আসছেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন অনেকক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে, অসহযোগিতা করে, এমনকি রোষানলে পড়তে হয়। তাছাড়া একাডেমিয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতা চর্চা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংঘর্ষে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়, তাছাড়া সাংবাদিকতার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সেক্ষেত্রে নারীদের কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা উপভোগ করতে পারলে এটা নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা নয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব তথ্য জানতে হয়- যা অন্যদের থেকে তাদের এগিয়ে রাখে, সাহসী করে। নারীরা খুব ভালো কাজ করছে এবং প্রমাণ করেছে নারীরাও ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় সক্ষম। যারা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আসবে প্রথমে তাদের ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। পাশাপাশি অনুসন্ধিৎসু মন, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা এবং পড়ার অভ্যাস থাকলে এটি তাদের আত্মবিশ্বাসী করবে। সর্বোপরি প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ও সচেতন হতে হবে।
জান্নাতুল ফেরদৌস
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
দৈনিক ইত্তেফাক
এখনো নারীদের পড়তে হয় সমাজের চক্ষুশূলে
আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় নারীরা বহুদূর এগিয়েছে। তবে তার জন্য ভাঙতে হয়েছে বড় বড় পাথরের দেয়াল। তবু সরেনি সমাজের বাঁধা। এখনো নারীদের পড়তে হয় সমাজের চক্ষুশূলে। মূলত নারীর প্রতি অবমূল্যায়ন, অবদমন, কুসংস্কার, একপেশে পৈশাচিকতা কিংবা ধর্মীয় অবজ্ঞা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়াদি তাদের পথ রুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে বিভিন্ন পেশায় নারীদের অগ্রযাত্রা বৃদ্ধি পেলেও সাংবাদিকতা পেশায় খুব একটা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সংবাদ হলো সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিক সেই দর্পণের নির্মাতা। এই দর্পণ যেমন সমাজের চিত্র তুলে ধরতে পারে তেমনি দূর করতে পারে সব অন্ধকার। নানাবিধ প্রেক্ষাপট, অবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে শোরগোল তৈরি করে বাঁধিয়ে দিতে পারেন মহাযুদ্ধও। সে হিসেবে সমাজে নারীর অবস্থান তৈরিতে সাংবাদিকতা একটি বড় মাধ্যমও হতে পারে। একই সঙ্গে এটা হতে পারে তাদের মুখপাত্র। নিজেদের জায়গা পরিষ্কারের একটা বড় সুযোগও বটে। কিন্তু, এই বড় প্ল্যাটফর্মে নারীরা যেন নিষ্প্রাণ। ঝরে যাওয়া ফুলের মতো নিষ্প্রভ আর মলিন তাদের অবস্থান।
ইভা আক্তার
গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বাংলাভিশন
সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও ইচ্ছা শক্তিই পারে এই পেশায় সফলতা আনতে
সাংবাদিকতা সাহসী এবং সম্মানজনক একটি পেশা। বর্তমানে পুরুষদের সঙ্গে নারীরাও সমানভাবে এই পেশায় কাজ করে যাচ্ছে। তবে এটা সত্য যে, তুলনামূলকভাবে পুরুষদের চেয়ে নারীদের এই পেশায় বেশি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে নারী সাংবাদিক হওয়ার ফলে দেখা যায়, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় সরাসরি উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা একটু কঠিন ব্যাপার হয়ে যায়। তবে মনের মধ্যে প্রবল সাহস ধারণ করতে পারলে, এই ধরনের বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বর্তমান যুগের মেয়েরা অত্যন্ত সাহসী এবং দৃঢ় চিত্তের অধিকারী। তাই ছোটখাটো বাধা বিপত্তি বা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইচ্ছাশক্তির দ্বারা নারীরা সাংবাদিকতা পেশায় নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।
নতুন যারা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আসবেন তাদের প্রথমত নিজের ক্যাম্পাসের সব ঘটনাবলি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে তা তুলে ধরার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, যেকোনো পেশায় সফল হতে হলে সৎ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মাধুরী আক্তার মায়া
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
চ্যানেল ২৪
সাংবাদিকতায় পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ আশাব্যঞ্জক নয়
সাংবাদিকতায় নারীদের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে বলা হয় সাংবাদিকতার আঁতুড়ঘর। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা তুলে আনে নিজের ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা। কখনও ক্যাম্পাসের অসঙ্গতিসহ নানান বিষয়। তবে পুরুষ আধিপত্যের এই পেশায় নারী সংবাদকর্মীদের অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আসতে হয়। নারীর জন্য অনুকূলে না থাকার পরেও পরিবার সমাজকে উপেক্ষা করে মেয়েরা আসেন এই পেশাটাকে ভালোবেসে। কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশে এসেও এখনও নারীরা এ পেশায় অবহেলিত। ফলে তাদের ভালোবাসার সাংবাদিকতা করা হয়ে ওঠে না। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় একজন নারী সাংবাদিকের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সব ধরনের পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নারীরা সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে সাংবাদিকতায় নারীর পদচারণা দৃশ্যমান হয়েছে। তবে পুরুষের তুলনায় এই সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয়।
মাহমুদা আক্তার
সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
বাণিজ্য প্রতিদিন