শীতে দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা
দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে ভারতের নেপাল ও সিকিম সীমান্ত খুবই নিকটবর্তী। আর এই সীমান্তের গা ঘেঁষে আছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। শীতকালে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের প্রাণ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবনির্মিত ১০তালা অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে এই পর্বত দেখার আগ্রহ দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যদিও তা হাবিপ্রবি থেকে দৃশ্যমান নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ছুটে যান পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। তাদের সেই ভ্রমণে সৃস্টি হয় গল্পগাথা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে প্রতিবছর শীতে মেঘমুক্ত নীলাকাশের নিচে দেখা যায় তুষারাচ্ছাদিত শ্বেতশুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। শীতের সময় উত্তরপশ্চিম আকাশে তাকালে মনে হবে চোখের সামনেই সাদা পাহাড়। ভোরের আকাশে বরফ আচ্ছাদিত নয়নাভিরাম পর্বতটি দেখা বেশ উপভোগ্য। কখনো তা রুপালি চকচকে রূপ ধারণ করে।
এদিকে শীত এলেই হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রার পরিকল্পনা করতে থাকেন। বন্ধু-বান্ধব একত্রিত হয়ে ছুটির দিনে রওনা হন পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে। দূর থেকে একটু খানি দেখা পেলেই যেন মহা আনন্দে মেতে উঠেন সবাই। অনেকেই রাতের ট্রেনে যাত্রা করেন। আবার অনেকে আগের দিনেই চলে যান সেখানে। আশ্রয় নিচ্ছে কোনো সহপাঠীর বাসায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে হলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় খুব ভোরেই পৌঁছাতে হয়।
.png)
এভাবেই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে কেন্দ্র করে যেন শীতকালে তেঁতুলিয়া হয়ে ওঠে পর্যটক কেন্দ্র। এই পর্বত ঘিরে উৎসাহ থাকে সব ধরনের মানুষের। কাঞ্চনজঙ্ঘা ঘিরে পর্যটক সমাগম বাড়ার ফলে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণের জন্য নিরাপত্তাসহ যাবতীয় সেবাও নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন, থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কাঞ্চনজঙ্ঘা ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করে হাবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওশিন তাজনিম নিশাত। তিনি বলেন, ১১ এবং ১২ নভেম্বরের কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্যুর আমার জন্য স্পেশাল ছিল। কারণ বাড়িতে না জানিয়ে এটাই প্রথম কোনো ভ্রমণ ছিল আমার। বিষয়টি আরো বেশি রোমাঞ্চকর ছিল, কারণ ১৩ নভেম্বরই ছিল আমাদের সেন্ট্রাল ভাইবা। ১১ নভেম্বর রাত ৮টার ট্রেনে দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্য বের হলাম আমরা ১৪ জন বন্ধু। ভ্রমণ ছিল তেতুলিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। পরে দেখলাম কাজী অ্যান্ড কাজী টি স্টেট।
ভ্রমণ বর্ণনা দিতে দিতে এই শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে সব বন্ধুরা ক্যাম্পাসে মিট করলাম। কে সময়মতো আসল- কে আসতে দেরি করছিল এসব নিয়ে কথা হচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে কারো ট্রিপ ক্যান্সেল হয়ে যাওয়া, কারো জন্য ট্রেন না মিস করে ফেলি এমন চিন্তাভাবনা সব মিলিয়ে বেশ এক্সাইটেড ছিলাম সবাই। আমার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো ছিল। নতুন পরিবেশের নতুনদের সঙ্গে যাচ্ছিলাম আরেক নতুন জায়গায়।
তিনি বলেন, ট্রেনে উঠার আগ মুহূর্তে ছোটবেলায় দেখা ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছায়াছবির শেষ দৃশ্যের কথা মনে হচ্ছিল। এরপর ট্রেনে উঠে সবাই মিলে গান গাওয়া, ঝালমুড়ি খাওয়া, ভ্লগিং, হকার মামাদের সঙ্গে মজা করা। পাশাপাশি সবার অনুভূতি শেয়ারিং বেশ ভালোই চলছিল। পরে আনুমানিক রাত ১১টায় আমরা পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। রাতে পঞ্চগড়ের এক বন্ধুর বাসায় থাকি।
তিনি বলেন, পরদিন ১২ নভেম্বর ভোর ৪টায় উঠে সবাই রেডি হওয়া শুরু করি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখব বলে৷ নাস্তা সেরে ভোর ৫টায় কাঞ্চনজঙ্ঘার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি। পথে যেতে যেতে চা বাগান পেলে সেখানে অটো দাঁড় করিয়ে ফটোশুট করি। দৃশ্যমান হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে আমরা এগিয়ে চলি জিরো পয়েন্টের দিকে।
তিনি বলেন, আগ্রহভরা মন নিয়ে অংশ নেয়া সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্যুরের কথা মনে থাকবে আজীবন।