ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী শহিদ মিনার

এবিএস ফরহাদ, কুবি
প্রকাশিত: ১৯:০২, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমী শহিদ মিনার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সালাম, রফিক, জব্বর, বরকত। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয় ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া প্রথম শহিদদের নাম। শহিদদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশের জনগণ ফিরে পায় ভাষার অধিকার। মায়ের ভাষা ফিরিয়ে দিতে সেদিন আত্মাহুতি দেওয়া শহিদদের স্মরণে প্রতিবছর আজও পালিত হয় ‘মাতৃভাষা দিবস’। 

পৃথিবীর একমাত্র জাতী হিসেবে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল বাঙালি তরুণরা। যার জন্য মেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি ১৮৮ দেশে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ বাঙালি জাতির রক্তে লেখা এক মুক্তির নাম, সংগ্রামের নাম। রক্তে লেখা ইতিহাস আজ বাংলা ভাষায় লিখিত। এ দেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ জাতিগোষ্ঠীর মায়ের ভাষার মর্যাদা এনে দিয়েছে একদল সাহসী তরুণ। যাদের স্মরণ করতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে তৈরি হয়েছে নানা স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতিবছর এইদিনে এসব স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এদিন এক সুরে আমাদের হৃদয়ে বেজে উঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ 

Advertisement

২০১৫ সালে ভাষা শহিদদের স্মরণে স্থাপনাটি নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের ২৬তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) রয়েছে একটি শহিদ মিনার। তবে দেশের অন্যান্য শহিদ মিনারের চেয়ে ব্যতিক্রমী এক শহিদ মিনারের দেখা মেলে ক্যাম্পাসটিতে। অন্যান্য শহিদ মিনারে তিনটি স্তম্ভ দেখা গেলেও এখানে দুটি স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে সগৌরবে। ২০১৫ সালে ভাষা শহিদদের স্মরণে স্থাপনাটি নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী হাশেম খানের নকশায় শহিদ মিনারটির স্থপতি ছিলেন আরেক একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মাঠের পার্শ্ববর্তী টিলার পাশে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার বানিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ক্যাম্পাসটির অন্যতম সুন্দর স্থাপনা হিসেবে শহিদ মিনারটি পরিচিতি পেয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি ঘুরে দেখা যায়, লালমাটির ছোট্ট টিলায় অবস্থিত শহিদ মিনারটি দুইটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। শহিদ মিনারের বাঁপাশের স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে সগৌরবে, যেখানে 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা', অ আ ক খ বাংলা বর্ণমালা স্থান পেয়েছে। ডানপাশের স্তম্ভটি শহিদ মিনারটিকে ফুটিয়ে তুলেছে ব্যতিক্রমী করে। যেখানে মায়ের কোলে শুয়ে আছে এক নবজাতক।

লালমাটির ছোট্ট টিলায় অবস্থিত শহিদ মিনারটি দুইটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শহিদ মিনারের এমন থিম নিয়ে কথা হয় ২০১৫ সালে নির্মিত শহিদ মিনার নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'এখানে আমরা ভিন্নভাবে শহিদ মিনারটিকে উপস্থাপন করেছি। এখানে মায়ের কোলে একটি শিশুকে দেখানো হয়েছে। মায়ের কোলে শিশু যেমন নিরাপদ, তেমনি বাংলাদেশেও বাংলা ভাষা নিরাপদ। এটি বুঝানো হয়েছে। বাংলাদেশ যদি মা হয়, ভাষা হলো তার শিশুর মতো। তাকে লালন পালন করা, মাতৃস্নেহে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। আর শহিদ মিনার হল জনতার প্রতীক। যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন তাদের প্রতীক হলো শহিদ মিনার। 

শহিদ মিনারটি ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফ। পরে মিনারটি সংস্কার করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবসে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাতৃভাষা দিবস পালন কমিটি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুল রহমান বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেই শহিদ মিনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। আমরা দিবসটি পালনের জন্য দুটি উপ কমিটি করেছি। প্রতি বছরই ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রথম পহরে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: কুবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!