তবে অবন্তিকার মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আম্মানও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
পোস্টে আম্মান বলেন, প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করছি ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মর্মান্তিক মৃত্যুতে। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। এবারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সবার কাছে অনুরোধ করবো পুরো ব্যাপারটা একটা ফেসবুক পোস্ট দিয়ে শুধু বিবেচনা না করে ঘটনার আদ্যোপান্তটা জানার জন্য। ঘটনার সূত্রপাত ০৪.০৮.২০২২ সালে। একটা ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের ১৪ জন শিক্ষার্থীর নামে গুজব ছড়িয়ে কয়েকজন বন্ধুদের কাছে পাঠানো হয়। যেখানে আমার নামেও অনেক মিথ্যা অপবাদ মূলক কথা ছিল। অবন্তিকার নিজের নামও সেই টেক্সটের মধ্যে ছিল। যখন এমন ম্যাসেজ সামনে আসলো আমি সবাইকে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় যাই। সেখানে অবন্তিকা উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে জিডি করা হয়।
.png)
উল্লেখ করা হয়, জিডি করে ফেরার সময় অবন্তিকা স্বীকার করে যে ঐ ভুয়া আইডিটা সে নিজে খুলেছে। এবং অন্য একটি মেয়েকে ফাঁসানোর জন্য সে এই কাজটি করেছে। পরবর্তী দিন কোতয়ালী থানার এস আই রুবেলকে (তদন্তকারী কর্মকর্তা) আমরা জানাই যে আমাদেরই এক ফ্রেন্ড ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এস আই রুবেল আমাদের থেকে অবন্তিকার আম্মুর ফোন নাম্বার নিয়ে কল করেন। কল ধরেন অবন্তীর বাবা। সেখানে এস আই রুবেল ভাই আঙ্কেলকে বলেন আপনার মেয়ের বন্ধুদের মধ্যেই যেহেতু বিষয়টি ঘটেছে সেহেতু নিজেরা বসে মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর মাধ্যমে সমাধান করে ফেলেন। সবাই যেহেতু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেহেতু প্রক্টর স্যারের কাছেও আমরা ব্যাপারটা অবহিত করি যাতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে যেন প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত থাকেন।
পোস্টে বলা হয়, অবন্তিকা এই ঘটনার আগ পর্যন্ত আমার বা আমাদের বেশ ভালো বন্ধুই ছিল। যাই হোক, প্রক্টর অফিস থেকে ওর পরিবারের কাছে চিঠি যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে অবন্তিকার বাবা মা ক্যাম্পাসে আসেন। প্রক্টরিয়াল তদন্ত কমিটির সামনে পুরো ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করে অবন্তিকা এবং একটা মুচলেকা দেয়। সেই দিনই তার আম্মা আমাদের সবার সঙ্গে বাইরে এসে কথা বলেন এবং বলেন ভালোভাবে বাকি সময়টা যেন আমরা মিলেমিশে পার করি। উনি ঐদিন আমাদের সবাইকে কেকও কিনে খাওয়ান।
আরো বলা হয়, তার পরবর্তী সময়ে আমি অবন্তীকার সঙ্গে কোনো কথা বলিনি। আর ফেসবুকে তার সাথে আমার তারপর থেকে কোনো যোগাযোগই হয়নি। এমনকি তার সাথে আমার ঐ ঘটনার পরে কোনো মাধ্যমেই যোগাযোগ হয়নি।
পোস্টে আম্মান বলেন, এবার আসি আমার জায়গা উপস্থাপনে। যারা পোস্টটি পড়ে একতরফা চিন্তা করছেন তারা একটু ঠান্ডা মাথায় এটা পড়বেন। একজন মারা গেছে তার জন্য দুঃখ পাওয়াটা অবশ্যই যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক। আমি নিজেও ব্যথিত এবং মানতে কষ্ট হচ্ছে যে এমন একটা তুচ্ছ ঘটনাকে মাথায় রেখে ২ বছর পরে এসে এমন একটা কাজ অবন্তিকা করবে। তবে একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখেন। এবং আমার কাছে প্রত্যেকটা বিষয়েরই ডকুমেন্টস আছে।
পোস্টে বলা হয়, আপনারা যদি ডকুমেন্টসগুলোও স্পষ্ট করে দেখেন তাহলে হয়ত বুঝতে পারবেন। আর একটা প্রশ্ন কি আপনাদের মাথায় আসছে না যে, মেয়েটিকে যদি আমি অনলাইনে কোনোভাবে ডিস্টার্ব করতাম তবে সে সেটার স্ক্রিনশট অবশ্যই দিতে পারত। সে সেটা কেন দিলো না? আসলে ঐ ঘটনার পরে তার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। না ফেসবুকে, না অন্য কোনো মাধ্যমে। ঐ ঘটনাতে সে আমার নামে যেসব বাজে কথা বলেছিল, তারপরে আর তার সঙ্গে কথা কোনো কথাই বলতাম না। তাকে কোনোভাবেই ডিস্টার্ব করার মতো মানসিকতা আমার কখনোই ছিল না। এই ছিল পুরো ঘটনা। সে আমাকে ব্লক করে রেখেছিল। তার সঙ্গে আমি আজকে পর্যন্তও ফেসবুকে বা অন্যকোনো মাধ্যমে কথাই বলিনি। এই ছিল আমার সাইডের বাস্তবতা এবং সত্যি বিষয়টি।
আম্মান পোস্টে বলেন, আমি সবগুলো তথ্যই প্রমাণসহ তুলে ধরছি। বিশ্বাস করা না করাটা একান্তই আপনাদের ওপর। তবে আমি যা বলেছি একদম সজ্ঞানে সত্যি বলেছি। উপরন্তু বলে রাখা ভালো, এই ঘটনার কয়েক মাস পরে অবন্তিকার বাবা মারা যান। হতে পারে সে তার মনে ক্ষোভ বেঁধে রেখেছিল যে আমাদের কারণেই তার বাবা কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন। হতে পারে এই ভাবনা থেকে অবন্তিকার মনে আমার বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তীব্র প্রতিশোধ প্রবণ চেতনা থেকেই হয়ত আজকের এই ঘটনা ঘটানো তার দ্বারা।
আরো বলা উচিত দ্বীন ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে যতটুকু সালাম বিনিময় যোগ্য সম্পর্ক ততটুকুই ছিল। এর বাইরে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না যে স্যার আমার হয়ে অবন্তিকে কয়েকটা কটু বাক্যও বলতে পারে। স্যারকে আমি ডিফেন্ড করছি ব্যাপারটা এমন না, তবে স্যারকে ক্যাম্পাসের সবাই বেশ সহজ সহরল মানুষ হিসেবেই চেনেন। পাবলিক সেন্টিমেন্ট অনেক বড় বিষয়।
তাই একপাক্ষিক চিন্তা না করে পুরো বিষয়টা চিন্তা করে একটা মতামতে উপনীত হওয়ার জন্য অনুরোধ করবো সবাইকেই। অবন্তীকার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি আমি এবং সবসময় তা করবো ইনশাআল্লাহ।
সবশেষে আম্মান পোস্টে বলেন, সবাই আমার দিকটাও ভাববেন। ভাববেন আমি তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রেখেও অযথা একটা ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হচ্ছি। আমি আজ পর্যন্তও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করিনি কোনো মাধ্যমেই। আমি নিজেই মাথায় সার্বিক পরিস্থিতির চাপ মাথায় নিয়েই পুরোটা লিখলাম।
এদিকে আম্মানের এমন পোস্ট ঘিরে দেখা দেয় নতুন চাঞ্চল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই পোস্টের প্রেক্ষিতে নানাবিধ কমেন্ট করেছেন।