ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

চবিতে এনালগ ব্যাংকিং ডিজিটাল হবে কবে

সোহেল রানা, চবি
প্রকাশিত: ১৯:১৬, ২৬ মে ২০২৪
চবিতে এনালগ ব্যাংকিং ডিজিটাল হবে কবে
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অপর নাম এনালগ ব্যাংকিং। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অপর নাম এনালগ ব্যাংকিং। দেশের সব স্কুলকলেজ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার অন্তর্ভুক্ত হলেও স্বায়ত্তশাসিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং সেবা এনালগের বেড়াজালে আবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি, ফর্ম পূরণ ও অন্যান্য কাজের জন্য রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের একটিমাত্র শাখা। এখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে টাকা জমা দিতে হয়। ফলে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, চবিতে অধিকাংশ বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অন্য বিভাগগুলোও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। যার ফলে শুরু হয়েছে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার কাজ। সরেজমিনে দেখা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি, বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনা। অনেকেই ব্যাংক রসিদ পূরণ করছেন। প্রতিটি বুথেই রয়েছে শিক্ষার্থীর দীর্ঘ সারি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমানে গ্রাম ও মফস্বলেও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা পৌঁছে গেছে। সেখানে দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এনালগ পদ্ধতি চরম দুর্ভোগের। ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পাদনে অন্যান্য ব্যাংকের শাখা স্থাপনও জরুরি। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারে।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে টাকা জমা দিতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী মো. রাকিব বলেন, প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় লাগেনি চবির শিক্ষা ব্যবস্থায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত নাগরিক তৈরি করা, সেখানে সনাতনী পদ্ধতিতে ব্যাংকে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ফি প্রদান করা সত্যিই লজ্জার, হতাশার ও ব্যর্থতার। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সৌরভ বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা না থাকায় দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এতে আমাদের সময় অপচয় হয়। একদিনে ১২- ১৩টা বিভাগের টাকা জমা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কখনো কখনো লাইন দাঁড়ানো নিয়ে মারামারি পর্যন্ত হয়।

সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা জেরিন বলেন, একুশ শতকের বিশ্বায়নের এ যুগে এখনো এভাবে এনালগ পদ্ধতিতে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়া সত্যিই দুঃখের। এতে শিক্ষার্থীদের সময় অপচয়ের পাশাপাশি অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভাগের কোনো কাজ ব্যাংকে গিয়ে করার কথা বললেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরক্তিভাব চলে আসে। ডিজিটাল বাংলাদেশে এটা শিক্ষার্থীদের ওপর একরকম জুলুম। আধুনিকতার এ বিশ্বে এনালগ পদ্ধতি পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে জানতে চবি আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ব্যাংক ডিজিটাল হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংক এবং সোনালি ব্যাংকের ডেমো দেখেছি। এই ডেমো চূড়ান্ত হলে আগামী সপ্তাহে কাজ শুরু হতে পারে। উপাচার্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ডিজিটাল করার জন্য। সম্প্রতি এ বিষয়ে মিটিং ও হয়েছে। ডেমো চূড়ান্ত হলে এরপর আমরা কাজ শুরু করব।

চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অহিদুল আলম বলেন, আমাদের ফ্যাকাল্টিগুলো আলাদা আলাদাভাবে কোনো ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারি কি না সেটা আমরা ভাবব। এতে করে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন ধরা লাগবে না। নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির টাকা আলাদা কোনো ব্যাংকে নেওয়া যায় কি না, সেটাও আমরা দেখব। আর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু করতে আমরা চেষ্টা করতেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!