ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

বন্যার্তদের সহযোগিতায় মানবিক টিএসসি, দশ ঘণ্টায় ৮৬ লাখ টাকা সংগ্রহ

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৭, ২৩ আগস্ট ২০২৪
বন্যার্তদের সহযোগিতায় মানবিক টিএসসি, দশ ঘণ্টায় ৮৬ লাখ টাকা সংগ্রহ
সংগৃহীত ছবি

একটি দেশ, রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে প্রথমেই যেই নামটি আসে সেটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বন্যার্তদের সহযোগিতা ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) যেন এক নতুন মানবিকতার টিএসসি হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যাললের হলে-হলে বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকতে চলছে পোশাক ও টাকা সংগ্রহের কর্মসূচি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে নানা উদ্যোগ, চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফান্ড কালেকশন।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে টিএসসিতে বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে উপচেপড়া ভিড় ছিল। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শুরু চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। এদিন ৮৬ লাখ ২২ হাজার ১৭২ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সরেজমিনে টিএসসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে দেখা যায়, বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে বেশ কর্মতৎপর হয়ে পড়েছেন। প্রত্যেকেরই যেন দম ফেলার সময়টুকু নেই। এছাড়া টিএসসিতে এসে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মানুষ।

প্যাকেট-বস্তা ভর্তি চিড়া, মুড়ি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন শুকনা খাবার নিয়ে আসছেন তারা। খাবার স্যালাইনের মতো জরুরি সামগ্রীও আনতে দেখা গেছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ ও নগদ অর্থ তুলে দিচ্ছেন আন্দোলনের প্রতিনিধিদের হাতে। বুথে বসা শিক্ষার্থীরা খাতায় অনুদানের অঙ্ক লিখে টাকা জমা রাখছেন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে অনলাইনেও ত্রাণ উত্তোলনের কাজ করছেন।

এছাড়া অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে ক্যাম্পাস এলাকাসহ আবাসিক হলে হলে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন। বিভাগে বিভাগেও শিক্ষার্থীদের একই ধরনের কর্মসূচি চালাতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমরা গতকাল থেকেও আজ বেশি সাড়া পাচ্ছি। নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করছি। ট্রাকে করে সেগুলো বন্যার্তদের পাঠাচ্ছি। এছাড়া আমরা শুধুমাত্র একটা নম্বর থেকেই অনলাইনেও টাকা সংগ্রহ করছি।

জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ত্রাতা রূপে আবির্ভূত হবে এমনটাই তো আমাদের প্রত্যাশা ছিল সবসময়। আশা করি, আগামীতেও সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই শিক্ষকেরা। জানা যায়, এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ রফিক শাহরিয়ার এই ত্রাণ সহযোগিতায় উৎসাহ দিতে শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে, ত্রাণ সহযোগিতায় নিজেদের একদিনের বেতন দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তবে এই মুহূর্তে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আমরা বিস্তারিত জানাবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস/আরআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!