আমার কাছে পয়লা বৈশাখকে ঈদের দিনের চেয়েও বেশি আনন্দের মনে হতো। ৪০০ টাকা দিয়ে একটা শাড়ি কিনতে পারলে মনে হতো ৪ লাখ টাকা দিয়ে শাড়ি কিনে ফেলেছি। ঈদে কখনো শাড়ি কিনতে না পারলে মন খারাপ হতো, কিন্তু পয়লা বৈশাখে কিনতে না পারার কষ্টের মতো নয়; পয়লা বৈশাখে শাড়ি নাই- এ নিয়ে দুঃখের শেষ থাকতো না!
সূর্যোদয় থেকে রমনার বটমূলে হাজির হয়ে গান শুনতাম। এদিন বটমূলে যেতে না পারলে মনে হতো আমি মারা যাব। রমনার বটমূলে যেতে হবে, সেখানে বর্ষবরণের গান শুনতে হবে, পান্তা ভাত খেতে হবে- যদিও তখন অর্থনৈতিক সামর্থ্য খুবই অল্প। ওই সময়ে এক প্লেট পান্তা-ইলিশ খেতাম ৬০-৭০ টাকায়। কখনো কখনো আলু ভর্তাও খেতাম।
.png)
পুরো রমনা পার্ক চক্কর দেওয়া ছিল আমার আরেকটি অভ্যাস। এই বাচ্চা কোলে নিয়ে হাঁটছি আর হাঁটছি; মানুষের কলরব শুনছি, রবীন্দ্রসংগীত শুনছি। রমনা পার্কে উপস্থিত মানুষ গোল হয়ে বসে গান গাইতো। ওই সময়ে, ওই বয়সে হাঁটার আনন্দ এতটাই ছিল যে, এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় বসে থাকলেও ওই হাঁটার সমান আনন্দ হবে না!
এমনো দেখেছি, এক মাসের বাচ্চা নিয়েও অনেক মা রমনার বটমূলে এসেছেন। অনেক বুড়োবুড়ি সাজগোজ করে বটমূলে চলে আসতেন।
করোনা সংকটের মধ্যে দুটি বৈশাখ পড়েছিল, আবার রমজান মাসও ছিল। এ দুটো বিষয় মিলিয়ে দুটো বৈশাখে মন খারাপ ছিল। কারণ করোনায় তখন মানুষ মরছে; কাছের আত্মীয়-স্বজন মারা যাচ্ছে। এ নিয়ে আতঙ্ক যেমন ঘিরে রেখেছিল, তেমনি ভীষণ মন খারাপ ছিল। এবারের বৈশাখে অতটা মন খারাপ নাই। তবে পয়লা বৈশাখ বলে কিছু আছে তা এবার অনুভব করছি না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, রোজা ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে এমন অনুভূতি হচ্ছে।