ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ বিনোদন ]

মডেলের শরীরী ফাঁদে ৫০ পুরুষ, অবশেষে ধরা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৩২, ২১ আগস্ট ২০২৩
মডেলের শরীরী ফাঁদে ৫০ পুরুষ, অবশেষে ধরা
বলিউডের মডেল নেহা

একে একে ৫০ জন পুরুষকে যৌনতার ফাঁদে ফেলে লুট করেছে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বলিউডের মডেল নেহা। মডেলের কুকর্ম ভাবাচ্ছে পুলিশকেও। অভিযোগ ওঠে ভয় দেখিয়ে টাকা লুটতে শহরের পুরুষদের জন্য যৌনতার ফাঁদ পাততেন। পুলিশ জানিয়েছে, মডেলের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন অনেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষদের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন নেহা। এর পর তার এবং ওই পুরুষদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো গোপনে ক্যামেরাবন্দি করতেন। কখনো নগ্ন করে মারধর করা হত তাদের। সেই ভিডিয়োও করা হত। আর এই ভিডিয়োগুলিই ছিল প্রতারণার প্রধান অস্ত্র।

‘টার্গেট’দের ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপে সেই ভিডিয়োগুলি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন অভিযুক্ত নেহা। সম্মান খোয়ানোর ভয়ে তাকে টাকা দিয়ে দিতেন ওই পুরুষেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মডেল পুরুষদের প্রলুব্ধ করে বাড়িতে ডাকলেও এই অপরাধের সঙ্গে তিনি একা যুক্ত ছিলেন না। রীতিমতো প্রতারণা চক্র চলত। নেহা ছাড়াও সেই দলে ছিলেন অনেকে।

সম্প্রতি কর্নাটকের পুলিশ এই চক্রটির পর্দা ফাঁস করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি পুরুষ এই প্রতারণাচক্রের শিকার হয়েছেন।

প্রতারিতদের মধ্যে এক জন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পর পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগকারী যুবক পুলিশকে জানান, নেহা প্রথমে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে থেকে ফোন নম্বর বিনিময়ের পর তাদের মধ্যে হোয়াট্‌সঅ্যাপে কথাবার্তা শুরু হয়।

নেহা প্রতারিতকে জানান যে, তার স্বামী দুবাইয়ে কাজ করেন। অভিযোগ, এর পর নানা ভাবে ওই যুবককে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। হোয়াট্‌সঅ্যাপে নিজের ছবি এবং ঠিকানাও পাঠায় নেহা।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ৩ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি নেহার বাড়িতে যান। তিনি বাড়িতে প্রবেশের কিছু ক্ষণের মধ্যে সেখানে পৌঁছন আরো তিন যুবক। তারা মারধর করেন,  নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর হুমকিও দেওয়া হয়। এবং তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

যুবক আরো বলেন, প্রথমে একটি মোবাইল নম্বরে সাড়ে ২১ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু তার পরেও ছাড়েনি আমাকে। রাত ৮টা পর্যন্ত বন্দি করে রাখা হয় আমাকে। এরপর ক্রেডিট কার্ড নিতে বাড়ি যাওয়ার নাম করে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে কোনও ভাবে পালিয়ে বাঁচি। 

পুলিশ যুবকের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবকের মতো আরও অনেককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিলেন নেহা। লুট করেছিলেন ৩৫ লক্ষ টাকা।

এখনও পর্যন্ত পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন নেহাও। চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!