রাফসানের এমন ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে বেশ চর্চা চলছে। এর তিন দিন পর রোববার (১২ নভেম্বর) রাতে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী সানিয়া এশা। বিষয়টি নিয়ে এদিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
এশা লেখেন, ‘আমি কখনোই এই বিচ্ছেদ চাইনি। এটা পারস্পরিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আমি শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করে গেছি আমার বিয়েটা টিকিয়ে রাখার জন্য। আমার স্বামী এবং আমার বিয়ে আমার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল, আমি তার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। কিছু বড় সমস্যা ছিল, যেগুলোর জন্য আমি নিজেই হয়তো সব শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু একটা মেয়ে কখনোই চায় না তার সংসারটা ভেঙে যাক। অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমি এখন প্রকাশ করতে চাই না।
.png)
‘এভাবে আমি নিজেই হয়তো সংসার আর চালিয়ে যেতে পারতাম না, কিন্তু আমার এতটুকু বিশ্বাস ছিল, অন্তত সঠিক আইনানুগত উপায়ে কিংবা যেটা সত্যি সেটা সবার সামনে এক্সেপ্ট করে সত্যিটা মেনে নিয়ে সবার সামনে ঘোষণা দেয়া হবে।’
এশা আরো বলেন, ‘তিনি বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে গেলেন, নোটিশে স্বাক্ষর করলেন। তারপর আমার স্বাক্ষর ছাড়াই এবং বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার জন্য তিন মাস অপেক্ষা না করে, আমার কাছ থেকে সম্মতি না নিয়েই বিচ্ছেদ ঘোষণা করলেন। হঠাৎ এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত এবং ভেঙে পড়েছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাতে এক স্ট্যাটাসে রাফসান সাবাব লেখেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঘোষণা করতে হচ্ছে, এশার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ইতি টানতে হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুব সহজ ছিল না, কিন্তু অনেক চিন্তাভাবনার পরে দুজনের আলাদা হয়ে যাওয়াটাই আমার কাছে সেরা উপায় বলে মনে হয়েছে। আমাদের একসঙ্গে তিন বছরের পথ চলা এবং আমি চাই শেষটা সম্মানজনকভাবেই হোক।’
২০২০ সালের অক্টোবরে চিকিৎসক সানিয়া এশার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাফসান।
উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপকদের একজন রাফসান। কলেজে পড়াকালীন সময় থেকেই উপস্থাপনার সঙ্গে জড়িত তিনি। আইবিএর শেষ বর্ষে থাকা অবস্থায় টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিকের সঙ্গে তার কাজের সুযোগ হয়।
আয়মান সাদিকের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করেন ‘টেন মিনিটস স্কুল শো’র। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন। এরপরে রাফসান লঞ্চ করেন ‘হ্যাশ ট্যাগ’ নামের আরেকটি শো। সেটিও দর্শকপ্রিয় হয়।
সবশেষে তিনি লঞ্চ করেন ইউটিউব শো ‘হোয়াট অ্যা শো’। শোটি এখন দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ইউটিউব শোর মধ্যে অন্যতম।