শাড়ি আত্মসাত: তানজিন তিশার বিরুদ্ধে তদন্তে সিআইডি
অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলার তদন্ত এবার সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদীপক্ষের নারাজির আবেদন মঞ্জুর করে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআইয়) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজির আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত সিআইডি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেছিলেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। তানজিন তিশা ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা তাকে 'গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি' দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তখনও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
এরপর গত ১০ নভেম্বর ম্যাসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং 'সামাজিকভাবে হেয় করার' হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। ওই অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।
তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের 'সত্যতা পায়নি' মর্মে গত ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। সেই প্রতিবেদনে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।