পাকিস্তানের ‘দার-ই-নিজাত’ ১৭০ কোটি ভিউ ছাড়াল
বিনোদন দুনিয়ায় একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে পাকিস্তানি টেলিভিশন নাটক ‘দার-ই-নিজাত’। টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারিত এই ধারাবাহিকটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে ১৭০ কোটি বা ১.৭ বিলিয়ন ভিউয়ের এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, নাটকটি শেষ হওয়ার আগেই, মাত্র ২৩টি পর্ব অন-এয়ার থাকা অবস্থায় এই অনন্য রেকর্ড গড়েছে।
পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুরেফিশান সেলিম ও শেহেরিয়ার মুনাওয়ার। ধারাবাহিকটিতে যথাক্রমে জারিয়াব ও আবু বকর চরিত্রে দেখা গেছে তাদের। এ ছাড়া জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির খান।
প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার উমাইরা আহমেদের রচনায় নির্মিত ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাকিব খান। এটি সম্প্রচারিত হচ্ছে পাকিস্তানের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এআরওয়াই ডিজিটালে।
গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জারিয়াব ও জামিলের দীর্ঘ সাত বছরের গভীর প্রেমের সম্পর্ক। জারিয়াব মনে-প্রাণে জামিলকে ভালোবাসলেও, জামিল চরিত্রগতভাবে ছিল চূড়ান্ত স্বার্থপর এবং সুবিধাবাদী। গল্পের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত টুইস্টটি আসে ১৩তম পর্বে। যেখানে দেখা যায়, জামিল নিজের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় জারিয়াবকে ধোঁকা দেয় এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কটি ভেঙে দেয়।
জামিলের এই অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতা জারিয়াবের জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। ভালোবাসার মানুষের এমন রূপ দেখে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এই চরম আঘাতই জারিয়াবকে জীবনের এক নতুন মোড়ে দাঁড় করায়। সে তার অতীত প্রেম এবং জীবনের সেই অধ্যায়কে ‘অজ্ঞতার সময়’ বা জাহেলিয়াত বলে আখ্যা দেয় এবং এক গভীর আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের দিকে ধাবিত হয়।
গল্প যত সামনে এগোয়, চরিত্রগুলোর ভাগ্য এবং মানসিকতায় তত বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। ভালোবাসায় প্রতারিত হওয়ার পর জারিয়াব নিজেকে গুটিয়ে নেয়নি। ভাঙা মন নিয়ে সে নিজের জীবনের ভুলগুলো সংশোধন করতে শুরু করে। আধুনিক জীবনযাত্রার চাকচিক্য ছেড়ে সে এক সুশৃঙ্খল, আধ্যাত্মিক এবং আত্মমর্যাদাশীল নারীতে রূপান্তরিত হয়। দর্শকদের কাছে তার এই রূপান্তর ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
জারিয়াবের জীবনের এই কঠিন ও বদলে যাওয়া সময়ে প্রবেশ ঘটে আবু বকরের। সে জারিয়াবের অতীত জানার পরও তাকে মন থেকে গ্রহণ করতে চায়। আবু বকরের পরিপক্বতা, সম্মানবোধ এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা জারিয়াবকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। নাটকের পরিণতিতে তাদের এই সুন্দর মানসিক বন্ধন ও রসায়ন দর্শকদের এক পরম তৃপ্তি দেয়।
যে স্বার্থের জন্য জামিল জারিয়াবকে ছেড়েছিল, নিয়তির খেলায় তাকে সেই স্বার্থের কাছেই হার মানতে হয়। নাটকের শেষভাগে জামিলের তীব্র অনুশোচনা এবং একাকীত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভালোবাসার অবমাননা করায় তার এই করুণ পরিণতি দর্শকদের একটি বড় নৈতিক বার্তা দেয়