ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]

দক্ষ কর্মী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দক্ষ কর্মী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ার নতুন নিয়ম
ছবি সংগ্রহীত

অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিক্ষকতা, কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ—এই সাত খাতের নির্ধারিত পেশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এ জন্য জারি করা হয়েছে মিনিস্টেরিয়াল ডিরেকশন ১২১ ও ১২২। এর মাধ্যমে আগের ডিরেকশন ১১৯-এর বদলে দক্ষ কর্মী ভিসা আবেদনের নতুন প্রক্রিয়াকরণ ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement

অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসা স্কিলস ইন ডিমান্ড সাবক্লাস ৪৮২-এর ক্ষেত্রে ডিরেকশন ১২১ কার্যকর হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রথমে সাত অগ্রাধিকার খাতের নির্ধারিত পেশা এবং আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে। এরপর রয়েছে ৪৮২ ভিসার স্পেশালিস্ট স্কিলস স্ট্রিম। তার পর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য আবেদনকারী এবং বিদেশ থেকে করা অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি এইজড বা ডিজঅ্যাবল্ড কেয়ারার, নার্সিং সাপোর্ট ওয়ার্কার, পার্সোনাল কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট, সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর, সোশ্যাল ওয়ার্কার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট পেশাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

নির্মাণ খাতেও রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশা। এর মধ্যে কনস্ট্রাকশন ট্রেড কর্মী, কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার, ইলেকট্রিশিয়ান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, বিল্ডিং ও সার্ভেয়িং টেকনিশিয়ান, ওয়েল্ডিং ও স্টিল কর্মী, ক্রেন ও লিফট অপারেটর এবং আর্থমুভিং প্ল্যান্ট অপারেটরের মতো পেশা রয়েছে।

শিক্ষা খাতে স্কুলশিক্ষক, স্কুল প্রিন্সিপাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভোকেশনাল এডুকেশন শিক্ষক ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ম্যানেজারসহ নির্ধারিত পেশাগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একইভাবে কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ খাতের নির্ধারিত পেশাগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী ও আঞ্চলিক দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে মিনিস্টেরিয়াল ডিরেকশন ১২২। এর আওতায় এমপ্লয়ার নমিনেশন স্কিম (১৮৬), রিজিওনাল স্পন্সরড মাইগ্রেশন স্কিম (১৮৭), স্কিলড ইন্ডিপেনডেন্ট (১৮৯), স্কিলড নমিনেটেড (১৯০), পার্মানেন্ট রেসিডেন্স স্কিলড রিজিওনাল (১৯১), স্কিলড রিজিওনাল (৪৮৯), স্কিলড ওয়ার্ক রিজিওনাল (৪৯১), স্কিলড এমপ্লয়ার স্পন্সরড রিজিওনাল (৪৯৪), স্কিলড রিজিওনাল (৮৮৭) এবং বিজনেস ইনোভেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্মানেন্ট (৮৮৮) ভিসা রয়েছে।

ডিরেকশন ১২২-এর আওতাধীন ভিসাগুলোর ক্ষেত্রেও সাত অগ্রাধিকার খাতের নির্ধারিত পেশার আবেদন প্রথমে প্রক্রিয়া করা হবে। আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে বা বাইরে অবস্থান করলেও এসব আবেদন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার গ্রুপে থাকবে। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য আবেদনকারী এবং পরে বিদেশ থেকে করা অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে।

নতুন নির্দেশনায় দক্ষ কর্মী ভিসার যোগ্যতা বা আবেদনের মৌলিক শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। মূল পরিবর্তন এসেছে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ক্রমে। সংশ্লিষ্ট ভিসার ক্ষেত্রে দক্ষতা, ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা, স্পন্সরশিপ বা নমিনেশনসহ বিদ্যমান শর্তগুলো বহাল রয়েছে।

নতুন অগ্রাধিকার চালুর ফলে আগের নির্দেশনার আওতায় জমা দেওয়া কিন্তু এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনও নতুন অগ্রাধিকার অনুযায়ী প্রক্রিয়া করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা চালুর সময় প্রক্রিয়াকরণের সময় কিছুটা ওঠানামা করতে পারে, কারণ আবেদনগুলো নতুন অগ্রাধিকার অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

সিডনিভিত্তিক স্কিলওয়েব গ্লোবালের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা দীর্ঘদিনের। নতুন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য ও এইজড কেয়ারসহ যেসব খাতে কর্মীর প্রয়োজন বেশি, সেসব খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!