প্রতিটি আমের জন্যই এমন আলাদা আলাদা সময়সীমা আছে। যেমন এখন বাজারে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ আম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গোবিন্দভোগ আম পরিপক্ব হয় ২০ মে পার করে। অথচ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে গোবিন্দভোগের প্রথম চালান আসে মে'র প্রথম সপ্তাহে। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না, কার্বাইড ব্যবহার করে সে আম পাকানো হয়েছে।
আম নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা বলছেন আম পরিপক্কা হওয়ার সময় জানলে গছিয়ে দেয়ার সুযোগ থাকে না। লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী ‘কোন আমটি কখন খাবেন’ নামের একটি বইও বের করেছেন। কোন আম আপনি খেতে পারবেন মে মাসের শেষ দিকে, কোন আম সুস্বাদু অবস্থায় খাওয়ার জন্য আপনার অপেক্ষা করতে হবে জুনের শেষ পর্যন্ত—তা খুব ভালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
.png)
বাংলাদেশের আম ভোক্তাদের প্রাকৃতিক নিয়মে আম পরিপক্ব হওয়ার পর বাজারে আসার সময়পঞ্জি (ক্যালেন্ডার) দেয়া হলো-
* গোবিন্দভোগ- ১৫ মে থেকে ৩০ মে
* গুলাবখাস- ২৭ মে’র পর
* গোপালভোগ- ২৫ মে থেকে ১০ জুন
* রানিপছন্দ- ১ জুন থেকে ১৫ জুন
* হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত- ৭ জুন থেকে ৩০ জুন
* ল্যাংড়া- ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই
* লক্ষ্মণভোগ- ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই
* হাঁড়িভাঙা- ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই
* আম্রপালি- ২৮ জুন থেকে ২৫ জুলাই
* বোগলাগুটি- ১২ জুন থেকে ৭ জুলাই
* মল্লিকা- ১৯ মে থেকে
* সূর্য্যপুরী- ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই
* ফজলি- ৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট
* আশ্বিনা- ৭ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর
মোদ্দা কথা, যে আমগুলো বাজারে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্ট হচ্ছে, পাকছে। আমাদের বাগানিরা যদি এটা জেনে এবং মেনে গাছ থেকে আম পাড়েন, তাহলে ভোক্তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন।