ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

ইংরেজির সেই ‘ফেরি বোট’ বাংলায় যেভাবে ‘লঞ্চ’ হলো

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ইংরেজির সেই ‘ফেরি বোট’ বাংলায় যেভাবে ‘লঞ্চ’ হলো
লঞ্চ শব্দটি এসেছে মূলত পর্তুগিজ ‘লাঞ্চা’ শব্দ থেকে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশ। এ দেশের যাত্রী পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ‘লঞ্চ’‌‌‌ শব্দটি বহুল পরিচিত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং বন্দর এলাকার মানুষের কাছে লঞ্চ বেশ গুরুত্বপূর্ণও বটে। নদীপথে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন উভয় কাজে ব্যবহৃত এই নৌযান নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্যও জনপ্রিয়।

কিন্তু এই নৌযানটিকে বাংলা ভাষায় ‘লঞ্চ’ কেন বলা হয় তা এক ধাঁধাঁ বটে। এ অঞ্চলে লঞ্চ বলতে যে আকৃতির নৌযানকে বোঝানো হয়, ইংরেজি ভাষায় কিংবা ইউরোপের দেশগুলোতে এ যানকে ‘ফেরি বোট’ বলে পরিচিত।

এ বিষয়ে ভাষাতত্ত্ববিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ শাহরিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, লঞ্চ শব্দটি এসেছে মূলত পর্তুগিজ ‘লাঞ্চা’ শব্দ থেকে। লাঞ্চা থেকে লাঞ্চ বা ক্যারিয়ার শব্দটি এসেছে। পর্তুগিজ থেকে ইংরেজি ভাষায় গেছে এ শব্দ। লাঞ্চা থেকে লঞ্চার শব্দ এসেছে।

Advertisement

এ শব্দের মানে কোনোকিছুকে বহন করে একদিকে ধাবিত করানো। এখন জাহাজের ছোট সংস্করণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে - সেটাও ব্রিটিশদের হাত ধরেই এসেছে এখানে। লাঞ্চা ব্যবহার করা হতো মূলত সাগরে রণতরীতে বহন করা বড় নৌযান হিসেবে।

এ অঞ্চলে শুরুতে চালু হয়েছিল প্যাডেল স্টিমার, তারপর কয়লাচালিত স্টিমার।

একইভাবে ইউরোপে ১৮শ শতকে কোনো জাহাজকে নোঙ্গর করার কাজে লঞ্চ নামে মাঝারি আকৃতির নৌযান ব্যবহার করা হতো। ওই সময়ের লঞ্চগুলো এখনকার মতো বড় ছিল না, ছোট আকৃতির হতো।

এ ছাড়া ইউরোপে প্রতিযোগিতামূলক নৌকাবাইচে লঞ্চ নামে একটি নৌযান ব্যবহার করা হতো, এ শব্দ দিয়ে এক ধরণের হুড খোলা স্বল্প ক্ষমতার মোটরচালিত নৌকাকে বোঝানো হতো। ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশে মোটরচালিত প্রমোদতরীকে লঞ্চ বলা হতো।

পরবর্তীতে ১৮ শতকের শেষের দিকে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের হাত ধরে এ অঞ্চলে যখন স্টিমার বা জাহাজ চালু হয়, তারও নোঙর করার কাজে ছোট আকৃতির নৌযান আনা হয়। এরপর এ অঞ্চলে উনিশ শতকের শুরুতে যখন নৌযানের সঙ্গে মোটরচালিত ইঞ্জিন জুড়ে দেয়া হয়, তখন সেসব নৌযানের নাম দেয়া হয় লঞ্চ।

এ অঞ্চলে শুরুতে চালু হয়েছিল প্যাডেল স্টিমার, তারপর কয়লাচালিত স্টিমার। এক সময় দেশের নদীপথে অনেক জায়গাতেই নাব্যতা সংকটের কারণে সেগুলো চলায় সমস্যা দেখা দেয়। লঞ্চ কম গভীর পানিতে চলতে পারে বলে এই সময়েই ব্যাপকভাবে লঞ্চ জনপ্রিয় হয়, কারণ এর নির্মাণশৈলী স্টিমারের চেয়ে একটু আলাদা।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে দূর-যাত্রায় এক সময় প্রধান বাহন ছিল এই লঞ্চ। এখনো লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অন্যতম প্রধান বাহন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!