ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

হালখাতায় আগ্রহ নেই দোকানিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২২
হালখাতায় আগ্রহ নেই দোকানিদের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতিবার বাংলা বর্ষবরণের দিন ক্রেতা-বিক্রেতারা তাদের পুরোনো পাওনা চুকিয়ে মিষ্টিমুখ করেন। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে লাল মোড়কের হিসাব খাতায় শুরু হয় তাদের নতুন বছরের সম্পর্ক। তবে এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বেচাকেনায় ভাটা ও রমজান থাকায় হালখাতা নিয়ে দোকানিদের তেমন আগ্রহ নেই। তবে এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী শুক্রবার হালখাতা করবেন দোকানিরা।

পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, তাঁতি বাজার, ফরাশগঞ্জ গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে নেই নববর্ষের আমেজ। হালখাতা নিয়ে ভাবনা নেই দোকানিদের। তাঁতিবাজারের জুয়েলারি দোকানগুলো নিত্যদিনের মতোই বেচাকেনায় ব্যস্ত। কিছু কিছু দোকানিরা দোকানকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন। তবে সাজসজ্জায় মন নেই। বিগত বছরগুলোতে দোকানে দোকানে যে মঙ্গলঘট, সোলার ফুল, মালাসহ নানা উপহার সামগ্রী সাজানো থাকতো এবার সে চিত্র দেখা যায়নি। অন্যদিকে, এ বছর শাঁখারী বাজারে নববর্ষের কেনাকাটা নেই বললেই চলে। দোকানগুলোতে নববর্ষ ও হালখাতার তেমন সরঞ্জামের দেখা মেলেনি।

নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে লাল মোড়কের হিসাব খাতায় শুরু হয় তাদের নতুন বছরের সম্পর্ক।

Advertisement

তাঁতি বাজারের অমিত জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী অমিত রায় বলেন, দুই বছর করোনার কারণে নববর্ষ উদযাপন হয়নি। এবার নববর্ষ সরকারিভাবে বৃহস্পতিবার পালন করলেও আমরা করবো শুক্রবারে। এদিন আমাদের হালখাতা চলবে। তবে এবার রোজার কারণে মানুষের আসা-যাওয়া কম। অন্যদিকে বেচাকেনাও কম হয়েছে। বেচা-বিক্রি ভালো হলে হালখাতায় বাকি টাকা আসতো।

মেসার্স বিশ্বাস স্বর্ণালংকারের কর্মচারী হালখাতা উপলক্ষে ফোনে তাদের ক্রেতাদের নিমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। এ সময় তার কাছে হালখাতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবার পঞ্জিকা অনুযায়ী হালখাতা হবে। এটা যুগযুগ ধরে হয়ে আসছে। এ বছরও আমাদের হালখাতা উপলক্ষে আয়োজন রয়েছে।

স্বর্ণদীপ জুয়েলার্সের মালিক মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম বাবা, চাচারা পহেলা বৈশাখের দিন দোকান সাজাতেন। নতুন খাতায় নতুন বছরের হিসাব শুরু করতেন। কিন্তু এখন দেশ ডিজিটাল হয়ে যাওয়ায় সেই খাতার প্রচলন নেই। সবাই কম্পিউটারে এসব হিসাব রাখেন। যে কারণে হালখাতার সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই।

এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী শুক্রবার হালখাতা করবেন দোকানিরা।

সাইদুল ইসলাম শেখ কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। এ বছর বর্ষবরণ উপলক্ষে পুরান ঢাকার তাঁতি বাজারের দোকানগুলোতে হালখাতা হবে। এজন্য তিনি লাল মোড়কের খাতা বিক্রি করছিলেন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের আগের দিন দোকানদাররা খাতা কেনেন। এজন্য খাতা নিয়ে দোকানে দোকানে যাচ্ছি। মোটামুটি খাতাও বিক্রি হচ্ছে। 

তাঁতিবাজার জুয়েলার্স ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ শরিফ বলেন, গত দুই বছর ধরে ব্যবসার অবস্থা ভালো না। করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সবমিলিয়ে কোনো রকম টিকে আছেন ব্যবসায়ীরা। আগে যেভাবে জাঁকজমকভাবে হালখাতা করতাম এবার সেভাবে হবে না। আমরা নিজেও কিছু করতে পারছি না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!